বৃহস্পতিবার, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮
১৩ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

করোনা: হতাশা দূরীকরণে খোলা কলাম

হাসিনা সাঈদ মুক্তা: আমি কোনো খ্যাতনামা লেখক ও ইউটিউবার নেই। তবে আমার আগ্রহ আছে এসবে। সমাজে নিপীড়ন, অকল্যান, অনিয়ম, হতাশা নিয়ে লিখি দু কলম। দু একটা ভিডিও করেছি সবে। তবে সেগুলো বই বিষয়ক। বর্তমানে হতাশা ও দুঃশ্চিন্তায় পরে নিজেকে নিঃশেষ করছে, এমন দেখা মানুষের দুঃখ ও গ্লানি আমাকে স্পর্শ করেছে।

করোনাকাল অনেককে শিখিয়েছে অনেক কিছু। শিখিয়েছে শক্তিশালী হতে। প্রাণ কেড়ে নেয়া সেটি আল্লাহর হুকুম। এখানে আমার মতো মানবী সাধারণ কী ই বলবে।

তবু আমি চেষ্টা করবো এমন কিছু বিষয় তুলে ধরতে।
আরেকটা কথা, ইদানিং মানুষের ভেতর নেতিবাচকতা ও হিংসাত্মক বিষয়টাও তীব্র হতে দেখা যায়। বিশেষ করে আমাদের দেশের মানুষের ভেতর।

আর্থিক সংকট, দাম্পত্য কলহ, পরকীয়ার কুপ্রভাব ইত্যাদি বেড়ে চলেছে। সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।

এসমস্ত কেন হচ্ছে তা চিহ্নিত করা জরুরি। তার ধারাবাহিকতায় সমাধান পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

একটু পেছনে তাকাই। করোনায় সবাই মনুষ্যত্বহীন হয়নি। এমন অনেক সাদা মন আছে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে খাবার, টাকা, বাজার ইত্যাদি। সেগুলো ভাবলেও ভালো লাগার কথা।

করোনার কিছু পরে ধর্ষণসহ নানান অপরাধ দেখেছি। দেখেছি হতাশায় পরে আত্মহত্যা ও ঘর ভাঙা বেড়ে যাবার খবর! আমার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আমি যে হতাশায় আক্রান্ত হইনি তা নয়। তবে আমার কেন যেন মনে হয় কাউসেলিং অর্থাৎ সু পরামর্শ ভালো পারি। এটা আমার আত্মবিশ্বাস।

“আমি এখন কি করবো” নামক যে অনুষ্ঠানটি দেখানো হয় সেটিতে সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান কিন্তু নেই। শুধু বলা হয় তাঁরা গাইডলাইন দিতে পারবে।এতে করে উল্টোটিও হয়েছে। অনেকের হতাশা বেড়েও গিয়েছে। কারণ তাদেরকে বলা হতো, তোমার সমস্যা তুমি এভাবে করোনি ইত্যাদি।

যাহোক, জীবনে সর্বাবস্থায় সংগ্রাম করে যেতে হয়। ভালো থাকার সর্বোত্তম উপায় আমার কাছে প্রার্থনা।

১) সকালে ওঠা। সকালটাকে উপভোগ করতে পারলে সারাদিনের ক্লান্তি চলে যাবে।

২) রোজকার প্রার্থনা করা। এর সাথে কোরআন তেলাওয়াত, অর্থ সহ পাঠ করলে মনে যেমন প্রশান্তি আসে; তেমনি অনেক অজানা বিষয় জানা যায়।

৩) প্রাতভ্রমণ করা অর্থাৎ সকালে হাটতে যাওয়া। সকালের সতেজ নির্মল বাতাস শরীরের জন্যে ভীষণ উপকারি। তবে এখন যেহেতু লকডাউন,বাসার নিচে উঠোনে কিংবা ছাদে হাটাহাটির কাজটি করা যায়।

৪) সময়টাকে ভাগ করা। রান্নাবান্না, সাংসারিক কাজ এবং অফিসের জন্যে প্রস্তুতি নেয়া। সেক্ষেত্রে কোনো কাজটা কয়টার ভেতর করলে ভালো, আগের দিন গুছিয়ে নেয়া যায়। প্রতিদিন করা হলে তা সুঅভ্যাসে পরিণত হবে।

৬) বাচ্চার ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া। অনলাইনে পড়ার পাশাপাশি পড়া দেখিয়ে দেয়া। না বুঝলে নিজে বসে থেকে বোঝানো। এতে করে বাচ্চার সাথে সু সম্পর্ক বাড়বে, ফলাফলও আশানুরূপ হবে।

৭) ঘর সাজানো। ঘরের আসবাব এদিক সেদিক অদলবদল করা। নতুন ফুলদানি বা শো পিস কিনে এনে সাজানো। ঘরের দেয়ালে নতুন রঙ দেয়া যেতে পারে। সাথে নকশি করা আলো দিয়ে সুসজ্জিত করা। তবে প্রতিবারই নয় ,সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গুছিয়ে করা।

৮) মনে কোন চাপ থাকলে কথা বলা। কথা বল্লেই বাঁচাল তা নয়। সবচাইতে আপন এবং বিশস্ত তাঁর কাছ খুলে বলা।

৫) আপনজনদের খোঁজখবর নেয়া। প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা। মাঝে মধ্যে হালকা সংগীত ছেড়ে দিয়ে, তাদেরকে দাওয়াত করে আপ্যায়ন করানো। এতে করে সম্পর্ক যেমন ভালো হবে তেমনি আতিথিয়তার মাঝেও বিষন্নতা অনেকখানি দূরীভূত হবে।
তবে, করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গে বাড়িতে লোক সমাগম না হওয়াই ভালো। বিকল্পভাবে কিছু খাবার বানিয়ে পাঠালে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। আত্মীয়, বন্ধু বা প্রতিবেশীরা সমাজে ছায়া দানকারী বৃক্ষের মতোন। নিজে ভালো থাকলেই নয়,তাদের খোঁজ খবর নেয়ার মধ্যেও অফুরন্ত প্রশান্তি লাভ হয়।

৬) মানসিক সমস্যা হলে সাইকো থেরাপি নেয়া।

৭) গাছ লাগানো। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করা। সবুজ প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে একাকার হওয়া কঠিন কিছু নয়।

৮) কারো আচরণে স্বার্থপরতা দেখলে, আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাকে সম্পর্কের তালিকা থেকে বাদ দেয়া। তবে তাকে যদি বুঝিয়ে দেয়া যায়, সেটা ভালো। মাত্রাতিরিক্ত বিদঘুটে আচরণ হলে সেটি খারাপ।

৯) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করা। সব কথা প্রকাশ না করাই উত্তম। নতুন বন্ধুদের ব্যাপারে সচেতন হওয়া। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খুব প্রয়োজনীয় না হলে বন্ধুত্ব না করাই ভালো।

১০) যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আবেগঘটিত বিষয় প্রকাশ করে ফেললে তৃতীয় কেউ সুযোগ নিতে পারে। যেটি বর্তমান ভার্চুয়াল জগতে প্রায়ই আমরা ভুলে যাই। একারণে মূল্যবান কিছু হারিয়ে মাশুল দিতে হয়।

২০২০ সালের করোনার প্রবাহ নতুন করে ফেনা তুলেছে ২০২১-এ। ঘরবন্দী জীবনে হতাশা নতুন করে দানা বেঁধেছে। তবে সবকিছুর পরেও জীবন ও জীবিকা থেমে থাকবে না। ওপরওয়ালার ওপর ভরসা রেখে নিজের বেঁচে থাকার চালিকাশক্তিকে সর্বাবস্থায় সচল রাখতে হবে। হতাশ হলে সেটি বাধাগ্রস্ত হবে।

লেখাটি হতাশা দূর করতে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস। মহামারী কবে চূড়ান্তভাবে সরে যাবে তা আমরা কেউ জানি না। তবে এ কঠিন সময় নিয়ে যদি জীবন অতিবাহিত হয়, তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করে বেঁচে থাকা কল্যানকর হোক সেটিই কাম্য।
 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
‘রাজনৈতিক ব্লেম গেম থেকে বিরত থাকা সকলের কর্তব্য’         কানাডায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের ঈদ কাটছে যেভাবে         যশোরে কোয়ারেন্টাইনে ভারতফেরত নারীর মৃত্যু         উমা সেনগুপ্তের চিরবিদায়ে কানাডা প্রবাসীদের শোক         দেশে টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে         বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত সকালে         নিউইয়র্কে পুলিশের সার্জেন্ট হলেন বাংলাদেশি নারী         রামপুরায় বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড         পথশিশুদের মাঝে ‘দশমিক’র পোশাক বিতরণ         জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সন্ধ্যায়         বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে বাংলাদেশেও ঈদ পালনের আহ্বান         দেশে চাঁদ দেখা যায়নি         ফেরিতে পদদলিত হয়ে পাঁচজনের প্রাণহানি         মিতু হত্যায় তিন লাখ টাকায় চুক্তি করেন বাবুল         বাবুল আক্তার ৫ দিনের রিমান্ডে         ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে শেখ হাসিনার চিঠি         ‘চীনা ভ্যাকসিনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই’         মামলার বাদীই হয়ে গেলেন মূল আসামি         মামলার বাদীই হয়ে যাবেন মূল আসামি!         শিমুলিয়ায় জনস্রোত         চীনের উপহারের ভ্যাকসিন এখন ঢাকায়