মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
১৮ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘দেশে এক সপ্তাহে ৩০ শতাংশ মৃত্যু বেড়েছে’

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭১ জন মারা গেছেন। অথচ এর পরবর্তী এক মাসে, অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪২ জন মানুষ মারা গেছেন। অর্থাৎ পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় মৃত্যু বেড়েছে ৫ গুণ। গত দুই দিনে করোনায় ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ালো।

দ্রুত মৃত্যু বৃদ্ধির কারণ চিকিৎসার অভাবে, নাকি নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনার এবারের ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ফুসফুস ড্যামেজ করে দিচ্ছে। অসুস্থতা বুঝে ওঠার আগেই রোগীকে নিতে হচ্ছে আইসিইউতে কিংবা লাইফ সাপোর্টে। সেখান থেকে আর রোগী জীবিত ফিরছে না। তারা আরো জানান, করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার প্রোটোকল পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। এক্ষেত্রে আপডেট করা প্রয়োজন। কারণ যেহেতু করোনার ভ্যারিয়েন্ট পরিবর্তন হয়েছে, সেহেতু চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি আছে কীনা সেটিও দেখা দরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মো. খুরশীদ আলম বলেন, ‘ভ্যারিয়েন্টের কারণে চিকিৎসা প্রোটোকলের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বের কোথাও পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বে করোনা চিকিৎসার যে প্রোটোকল আমাদেরও একই প্রোটোকল। ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন হয়নি।’

৩৬ জেলায় আইসিইউ নেই: এদিকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে করোনা রোগীর প্রচণ্ড চাপ। অক্সিজেন ও আইসিইউ সংকট প্রকট। সময়মতো রোগীরা অক্সিজেন ও আইসিইউয়ের সাপোর্ট পাচ্ছেন না। দেশের ৩৬ জেলায় আইসিইউ না থাকায় করোনা রোগীরা সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না। এসব জেলার রোগীরা রাজধানীতে আসছেন। রাজধানীর পাঁচ সরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা রোগীর চাপে আমরা দিশাহারা। চাহিদার তুলনায় অক্সিজেনের সংকট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৮৭ ভাগই আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত।’

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের এক বছর যাবৎ দাফনের কাজ করছে ঢাকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আল-মারকাজুল ইসলাম। সংস্থাটির এক জন কর্মী বলছেন, ‘গত দুই সপ্তাহ যাবত এত বেশি মৃতদেহ দাফন করতে হচ্ছে যে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। একের পর এক মৃতদেহ দাফন করছেন তাদের কর্মীরা। গত দুই সপ্তাহ যাবত মৃতদেহ দাফনের জন্য প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি ম্যাসেজ আসছে তাদের কাছে। অথচ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ম্যাসেজ আসত প্রতিদিন তিনটা বা চারটা।

মৃত্যু বাড়ার কারণ কী? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘করোনায় মৃত্যু বৃদ্ধির কারণ চিন্তা-ভাবনা করে বলতে হবে। কেউ বলছেন, অক্সিজেনের অভাব, কেউ বলছেন চিকিৎসার অভাব। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট মৃত্যু বৃদ্ধির কারণ কীনা সেটিও দেখার আছে। তবে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মানাতে হবে।

করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসার অভাব, আইসিইউ শয্যার সংকট ও অক্সিজেনের অভাবে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে। দেশের ৩৬ জেলায় এখনো পর্যন্ত করোনার সুচিকিৎসা করা যাচ্ছে না। বিনা চিকিৎসায় মানুষ মারা যাচ্ছে। আমরা অনেক সময় পেয়েছি। কিন্তু চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়াতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট যখন শুরু হলেছিল, তখন তা লুকানো উচিত হয়নি।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, ‘করোনায় মৃত্যু বৃদ্ধির অন্যতম কারণ রোগীদের সচেতন না হওয়া। বিলম্বে রোগীরা হাসপাতালে যায়, পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতায় রোগী মারা যায়।’ তিনি বলেন, করোনার কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।’

ঢাকা শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ড. সমীর সাহা বলেন, ‘করোনায় মৃত্যু বৃদ্ধির কারণ নতুন ভ্যারিয়েন্ট কী না সেই ব্যাপারে গবেষণা চলছে। বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীর ফুসফুস দ্রুত ড্যামেজ করে দিচ্ছে।’ গবেষক ডা. সেজুতি সাহা সচেতনতামূলক একটি বক্তব্য দিয়েছেন। সেটি হলো, ‘ভ্যারিয়েন্ট যেটাই হোক, মাস্কে সে ধরা পড়বেই। মাস্ক পরুন। মুখ আর নাক ঢাকুন। নিজে বাঁচুন, অন্যদের বাঁচতে দিন।’

মোট মৃত্যু ১০ হাজার ৮১ জন
দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর হু হু করে মৃত্যু বাড়ায় গত ১৫ দিনেই দেশে ১ হাজার রোগী মারা গেছেন। গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর বাংলাদেশে হাজার মৃত্যু ঘটতে এটাই সবচেয়ে কম সময়। গত বুধবার ৯৬ জন এবং গতকাল ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮১ জন। সংক্রমণের বিস্তার রোধে কঠোর লকডাউনের মধ্যে দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ১৯২ রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর%

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
সাংবাদিক হেনস্থা করায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে : রোজিনা         রিমান্ড নাকচ, সাংবাদিক রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কটের ঘোষণা সাংবাদিকদের         রোজিনা ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নেওয়া হলো আদালতে         একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ সত্য খুঁজে বের করা         রোজিনাকে সচিবালয়ে আটকে রেখে মারধর         প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা         রোজিনা ছিঁচকে চোর না, সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত সাংবাদিক         আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেন         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সুচিকিৎসা দিয়ে দায়িত্ব পালনে ফিরে যেতে দেওয়া হোক         পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকে         প্রথম আলোর রিপোর্টারকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে হেনস্থা করা হয়েছে         জীবনযুদ্ধে জয়ী আকলিমা চাকরি পেলেন পৌরসভায়         মাথাপিছু আয় এখন ২২২৭ ডলার         সংবাদ মাধ্যমের অফিস লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব         ভারতফেরত তরুণীকে কো'য়ারেন্টিনে ‘ধ'র্ষণ’, এএসআই গ্রে'প্তার         সেদিন অনেক ঝড় মাথায় নিয়েই দেশে এসেছিলাম: শেখ হাসিনা         ব্যাংক কর্মকর্তারা দুর্নীতি করলে জরিমানা-মামলা         পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বর্ডার বন্ধ