মঙ্গলবার, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮
১১ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: মহান আল্লাহর তাআলার নৈকট্য অর্জনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উপোসে কাটানো হয় পুরোটা দিন। এরপরই আসে সে মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রভুর কাছে ফরিয়াদ জানানোর এক অপূর্ব সময়। সামনে খাবার অথচ মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর হুকুমের অপেক্ষা। নির্দিষ্ট সময় আসতেই আর্জি পেশ করা হবে রোজা কবুলের। সমস্ত আমলকে গ্রহণ করার। সে মহিমান্বিত সময়টিই হলো ইফতারের পূর্বক্ষণ। যে সময়ের চাওয়াকে মহান আল্লাহ ফিরেয়ে দেয়না কখনোই।

রোজায় সেহরি খাওয়া যেমন সুন্নত, তেমনি আরেকটি সুন্নত হলো দ্রুত ইফতার করা। ইফতারের সময় হওয়ার পর আর কোনো বিলম্ব করা একদমই অনুচিত। রোজাদারের ইফতার করার ক্ষেত্রে বিধান হল- সূর্য অস্ত যেতে হবে এবং রাত শুরু হতে হবে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন- ‘আর পানাহার কর যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।’ –(সূরা বাক্বারাহ, ১৮৭)

হযরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘মানুষ ততদিন পর্যন্ত কল্যাণে থাকবে যতদিন তারা অবিলম্বে ইফতার করবে।’ (বোখারী শরীফ, হাদীস নং: ১৮৫৬) (মুসলিম শরীফ , হাদীস নং: ১০৯৮)

অন্যত্র আছে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যখন এখান থেকে রাত্রির আগমন ঘটে ও ওখান থেকে দিন চলে যায় এবং সূর্য অস্ত যায় তখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করবে।’ –(বোখারি ও মুসলিম)। তাই ইফতারের আদব হল সূর্য অস্ত যাওয়া মাত্রই তাড়াতাড়ি ইফতার করা।

তিনি আরো বলেছেন- ‘যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন দ্বীন বিজয়ী থাকবে। কেননা ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা ইফতার দেরিতে করে।’ -(আবু দাউদ)

ইফতারের সময় দোয়া করা উত্তম। এসময়টা রোজাদারের জন্য মহান আল্লাহর রহমত স্বরুপ।
এসময়ে রোজা পালনকারীর দোয়া কবুল হয়। কারণ ইফতারের সময়টা হল বিনয় ও আল্লাহর জন্য ধৈর্য ধারণের মুহূর্ত। দুনিয়ার সমস্ত উপলক্ষ ছেড়ে মানুষ তখন কেবলই আল্লাহর জন্য অপেক্ষা করে। অপেক্ষা করে তার রহমতের। তার কবুলিয়তের।

এ সময়ই জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয় পাপিদের। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল না করে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না—১. ন্যায়বিচারক শাসনকর্তার দোয়া, ২. ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়া এবং ৩. মাজলুমের (নির্যাতিত ব্যক্তির) দোয়া।

তেমনিভাবে এসময়ে প্রত্যেক রোজাদারই যেন মেজবান হয়ে যায়। একে অপরকে মেহমানদারি করায়। কারণ, রোজাদারকে ইফতার করালে অশেষ সওয়াব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তাকে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে। তবে রোজাদারের সওয়াবে কোনো কর্তন করা হবে না। -(তিরমিযি)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত- যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তার গোনাহ মাফ হবে, সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং সে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। এতে ওই রোজাদারের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের সবার তো আর রোজাদারকে ইফতার করানোর মত সামর্থ্য নেই। রাসূল (সা.) ইরশাদ করলেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে খেজুর, পানি অথবা সামান্য দুধ দিয়ে ইফতার করাবে মহান আল্লাহ তাকেও এই সওয়াব দেবেন। (ইবনে খুজায়মা, বায়হাকি)

অতএব, অবশ্যই ইফতারে একে অপরকে দাওয়াত দেয়া, রোজাদারদের ডেকে ডেকে ইফতার করানো এবং এই বিশেষ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা; চাওয়া। নিজের সমস্ত আমল কবুলের ফরিয়াদ জানানো।

শীর্ষ সংবাদ:
চঞ্চলের পরিচয় নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির জোয়ার         ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ         করোনা পরীক্ষার নতুন ফি নির্ধারণ         ‘চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে’         ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা যাবে না’         যমুনা গ্রুপে চাকরি         কাল থেকে ঈদের ছুটি শুরু         পন্টুনের তার ছিঁড়ে মাইক্রোবাস নদীতে         বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে বাংলাদেশ         বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         ‘চীনকে চিঠি দিয়েছে সরকার’         কানাডায় ভ্যাকসিন: 'ম্যাচ অ্যান্ড মিক্স' এর পরিকল্পনা         চঞ্চল চৌধুরী, তুমিই মানুষ!         সমাজসেবায় তরুণ প্রজন্ম         করোনাভাইরাস ছড়ায় যেভাবে         চলছে সন্ধ্যা রায়ের জীবনমরণ লড়াই         দেশে টাকায় মিলল করোনার উপস্থিতি         বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল থাইল্যান্ডও         আমার সবকিছুর মৌলিক ভিত্তি আমার মা: জয়া         নিখোঁজের তিন দিন পর তরুণের লাশ উদ্ধার