রবিবার, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮
০৯ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘মুসলিম নারী গোয়েন্দার’ আত্মত্যাগ

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: লন্ডনের ব্লুমসবারি এলাকায় যে বাড়িটিতে থাকতেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মুসলিম নারী গুপ্তচর নুর ইনায়েত খান, সেটিতে তাঁর স্মরণে স্থাপন করা হয়েছে একটি নীল ফলক।

ব্রিটেনে বিখ্যাত লোকজন যেসব বাড়িতে থেকেছেন, সেগুলোতে সাধারণত এরকম নীল ফলক লাগানো হয় সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য। তবে এই প্রথম ব্রিটেনে ভারতীয় কোনো নারীর জন্য কোনো বাড়িতে এরকম নীল ফলক লাগানো হলো।

নুর ইনায়েত খান ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ গুপ্তচর। তিনি কাজ করতেন ব্রিটিশ সরকারের ‘স্পেশাল অপারেশন্স এক্সিকিউটিভ (এসওই) নামের একটি গুপ্ত সংস্থায়। জার্মানি যেসব দেশ দখল করে নিয়েছিল, সেসব দেশে এই সংস্থাটি গুপ্তচর পাঠাতো। উদ্দেশ্য ছিল সেসব দেশে যারা নাৎসী দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের সাহায্য করা।

নুর ইনায়েত খানকে পাঠানো হয়েছিল প্যারিসে। ধারণা করা হয়, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে কাজ করা প্রথম মুসলিম নারী গুপ্তচর।

নুর ইনায়েত খান জার্মান গুপ্ত পুলিশ সংস্থা ‘গেস্টাপো’র হাতে ধরা পড়েন। এরপর ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক কনসেনন্ট্রেশন ক্যাম্পে তার মৃত্যু হয়।

যেভাবে নুর ইনায়েত খান গুপ্তচর হয়েছিলেন
নুর ইনায়েত খানের জন্ম মস্কোতে। তাঁর বাবা ছিলেন ভারতীয়, মা মার্কিন নাগরিক।

তার বাবা এসেছিলেন এক ভারতীয় রাজ পরিবার থেকে। তারা থাকতেন লন্ডন এবং প্যারিসে।

নুর ইনায়েত খানের বয়স যখন মাত্র ১৩, তখন তার বাবা মারা যান। এরপর নিজের মা এবং অন্য ভাইবোনদের সাহায্য করতে তাকে দায়িত্ব নিতে হয়।

সঙ্গীতে তার ভীষণ আগ্রহ ছিল। সেই সঙ্গে শিশুদের জন্য লেখালেখিতে। এসব লেখা প্রকাশিত হয়েছিল ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেনে।

জার্মানি যখন ফ্রান্স দখল করে নিল, নুর এবং তার পরিবার ইংল্যান্ডে পালিয়ে আসেন। ১৯৪০ সালের নভেম্বরে তিনি যোগ দেন উইমেন্স অক্সিলারি এয়ারফোর্সে (ডাব্লিউএএএফ)।

১৯৪২ সালের শেষের দিকে তাকে ‘স্পেশাল অপরেশন্স এক্সিকিউটিভের (এসওই) একজন রেডিও অপরেটর হিসেবে রিক্রুট করা হয়।

এসওই এজেন্টদের যুদ্ধ করার প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। সেই সঙ্গে রেডিও এবং টেলিগ্রাফ পরিচালনার। যাতে করে শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দেয়া যায়।

এদের প্রায়শই নানা রকম গোপন যন্ত্রপাতি এবং অস্ত্রশস্ত্র বহন করতে হতো। যেমন ছাতা বা পাইপের মধ্যে লুকিয়ে রাখা যায় এমন বিস্ফোরক ভর্তি কলম। জেমস বন্ড ছবিতে পরবর্তীকালে যে ধরনের গোপন অস্ত্র দেখানো হতো, অনেকটা সেরকম।

তাদের মিশনগুলো ছিল বেশ বিপদজনক। অনেকেই জানতো, অভিযানে গিয়ে হয়তো তারা আর ফিরে আসবে না। তবে এই ঝুঁকি তারা মেনে নিয়েছিল।

নুর ইনায়েত খানের কাজ ছিল লন্ডনে গোপন বার্তা পাঠানো। এটি ছিল বেশ বিপদজনক কাজ।

তবে তিনি গোপন তথ্য সংগ্রহের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন শত্রুপক্ষের পেছনে। তাকে প্যারাশ্যুটে ড্রপ করা হয়েছিল জার্মান অধিকৃত ফ্রান্সে।

নুর ইনায়েত খানের সাংকেতিক নাম ছিল ‘ম্যাডেলিন‌‌’ এবং ফ্রান্সে তখন আরও যে শত শত গুপ্তচর কাজ করছিল তিনি গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

নুর ফ্রান্সে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তাদের এসইও নেটওয়ার্কের অনেক গুপ্তচর ধরা পড়েন। তবে তারপরও নুর ফ্রান্সে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন গ্রেফতার এড়ানোর জন্য।

তার প্রথম মিশনে কাজ করার সময়েই তিনি ধরা পড়েন। তবে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। এর কয়েক মাস পর তাকে আবার আটক করা হয়।

আরো তিনজন গুপ্তচরের সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এক কনসেনট্রেশন্স ক্যাম্পে। জার্মান কারারক্ষীরা তাকে এক বছর ধরে প্রায় অনাহারে-অর্ধাহারে রেখেছিল। এরপরও নুর ইনায়েত খান কোনো ধরনের গোপন তথ্য ফাঁস করতে অস্বীকৃতি জানান।

নুর ইনায়েত খানকে তার সাহসিকতার জন্য জর্জ ক্রস দেয়া হয়। এটি ব্রিটেনে বীরত্বের জন্য সর্বোচ্চ সামরিক খেতাবগুলোর একটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মাত্র যে তিনজন নারী এই খেতাব পান, তিনি ছিলেন তার একজন। বিবিসি বাংলা

শীর্ষ সংবাদ:
গবেষণায় করোনাকালীন নারীদের নানা প্রতিকূলতা         যেই ক্ষোভে তানিশাকে হত্যা করলো চাচাতো ভাই         কাবুলের স্কুলে বিস্ফোরণে প্রাণহানি ৪০         সহসাই খুলছে না বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত         টিকার দাম কমাতে রাশিয়াকে চিঠি         তোফায়েল আহমেদ সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন         খালেদার বিদেশের ব্যাপারে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী         এসএসসির ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা         বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         উদ্যানের বিষয়ে যা বললেন কাদের         শিমুলিয়া থেকে ছাড়ল ফেরি         গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ         কানাডায় কোভিড ভ্যারিয়েন্ট বাড়ছে         খালেদার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আজ         হাসপাতালে ভর্তি তোফায়েল আহমেদ         ইতালিতে করোনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যু         জনকণ্ঠের চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি বিএফইউজে‘র         নির্মল বন্ধুত্ব চাই!         শনিবার থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ