বুধবার, ৩০ চৈত্র ১৪২৭
১৪ এপ্রিল ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সেক্রেটারির পর মার্কিন কূটনীতিকের সর্বোচ্চ পদ এটি।

থমাস-গ্রিনফিল্ড ১৯৪৭ সালে কংগ্রেসের আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনের নেতৃত্বদানকারী ৩১তম ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসে কয়েক দশকের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন থমাস-গ্রিনফিল্ড ইতোপূর্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাজনৈতিক বিষয়াদি, সংঘর্ষত্তোর শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহায়তা ও মানবাধিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট দীর্ঘদিনের কূটনীতিক থমাস-গ্রিনফিল্ডের মনোনয়ন নিশ্চিত করার পরেরদিন, ২৪ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিস থমাস-গ্রিনফিল্ডকে শপথ পাঠ করান। থমাস-গ্রিনফিল্ড প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মন্ত্রীসভায় একজন সদস্য হিসেবে মর্যাদা পাবেন। তাকে একজন পরিণত, সম্মানিত ও পথিকৃত্‌ কূটনীতিক উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, “আমাদের বৈদেশিক নীতি সংক্রান্ত সকল প্রধান আলোচনায় আমি তার বক্তব্য শুনতে চাই।”

জাতিসংঘে চ্যালেঞ্জের কোনো ঘাটতি নেই: বিশ্বব্যাপী মহামারি চলছে, জলবায়ু সঙ্কট আরো গভীরতর হয়েছে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ, অভিবাসন ও চরম দারিদ্র্যের কারণে জাতিগত অন্যায্যতার পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিশ্বের কিছু অংশে কর্তৃত্ববাদীরা তাদের ক্ষমতা সংহত করতে চাচ্ছে।

“প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার অভিষেক ভাষণে যা করার কথা বলেছেন সেটা করার লক্ষ্যেই আমরা অগ্রসর হবো: আমাদের জোটগুলো পুনর্গঠন করব, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করব এবং দৃষ্টান্তের শক্তি দিয়ে নেতৃত্ব দেব,”

তিনি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আমরা যখন খাদ্য নিরাপত্তা, তীব্র অপুষ্টি, সংঘাত-দ্বারা-চালিত ক্ষুধা টেকনিক্যাল শব্দগুলো ব্যবহার করি তখন যেন এর আসল অর্থ ভুলে না যাই। এর মাধ্যমে আমরা এখানে মানবতার দুর্দশার কথা বলছি। আমরা প্রকৃত দুর্ভোগের কথা বলছি। আমরা বাস্তব মানুষদের কথা বলছি।”

উল্লেখ্য, আট সন্তানের মধ্যে সবার বড় থমাস-গ্রিনফিল্ড এর মা ছিলেন একজন রাধুনি এবং তার বাবা ছিলেন দিনমজুর, যিনি পড়তে জানতেন না। তিনি লুইসিয়ানার বিচ্ছিন্ন একটা শহর বাকেরে তার মা-বাবার পরিবারে বড় হয়েছিলেন, যেই শহরে কৃষ্ণাঙ্গ বিশেষ করে আফ্রিকান আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাধ্যমে আতঙ্ক বিস্তারকারী ও ঘৃণা ছড়ানোতে কুখ্যাত কু ক্লুস ক্লান গ্রুপ সক্রিয় ছিল।

থমাস-গ্রিনফিল্ড (কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য পৃথকভাবে পরিচালিত) হাইস্কুল থেকে লেখাপড়া শেষ করে প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান হিসেবে লুইসিয়ানা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি অন্য অনেকের মতো ডেভিড ডিউককেও পেয়েছিলেন, যিনি পরবর্তীকালে ক্লান নেতা হয়েছিলেন।

সেসব অভিজ্ঞতা আমার হৃদয়কে কঠোর করার পরিবর্তে আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিল,” উল্লেখ করে থমাস গ্রিনফিল্ড বলেন, “এই ধরনের অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে উদার হতে শিখিয়েছিল। আমি বুঝতে শিখেছিলাম যে উদারতা দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি।”

তার পরিবারে থমাস-গ্রিনফিল্ড প্রথম স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। এরপর তিনি উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তিনি ১৯৮২ সালে ফরেন সার্ভিসে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন, যা তাকে পরবর্তীতে দায়িত্বপালন সূত্রে চারটি মহাদেশে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি লাইবেরিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সুইজারল্যান্ড, পাকিস্তান, কেনিয়া, গাম্বিয়া, নাইজেরিয়া ও জ্যামাইকাতে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

থমাস-গ্রিনফিল্ড (মধ্যে ডানে) আফ্রিকা বিষয়ক তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট, এবং সামান্থা পাওয়ার (মধ্যে বায়ে) জাতিসংঘে তৎকালীন মার্কিন প্রতিনিধি ২০১৩ সালে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের বাঙ্গুই-তে মুসলিম ও খৃষ্টান নেতাদের সাথে সভা করছেন।

ইবোলা সঙ্কট চলাকালীন সময়ে ওয়াশিংটনে আফ্রিকান বিষয়ক ব্যুরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে থমাস-গ্রিনফিল্ড স্টেট ডিপার্টমেন্টের ৭০,০০০ শক্তিশালী কর্মীবাহিনীর কাজ তদারক করতেন। তিনি ডিপার্টমেন্টে বৈচিত্র্য, সাম্য ও অন্তর্ভুক্তি প্রচেষ্টা গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তিনি জাতিসংঘে এই ধরনের কাজ অব্যাহত রাখবেন এবং আরো বিস্তৃত পরিসরে আমেরিকার দৃষ্টান্তের শক্তি দিয়ে আমেরিকার নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

থমাস-গ্রিনফিল্ড বলেছেন যে তিনি বৈশ্বিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও তরুণ বয়সীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন, যা জাতিসংঘকে নিউইয়র্কের বাইরে নিয়ে যাবে, সবাই কথা বলতে পারবে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের কাজ ও আমাদের এডভোকেসিতে সকল আমেরিকানের ইচ্ছা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা আমাদের সাধ্যের সবটুকু করব।”
 

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

শীর্ষ সংবাদ:
আজ পহেলা বৈশাখ         কোন এক বৈসাবিতে         সুস্থ থাকতে সেহরিতে যে সকল খাবার খাওয়া উচিত         শিথিল লকডাউনে যুক্তরাজ্যে উৎসবের আমেজ         ক্রিকেটার সাকিবের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেন মিথিলা         লকডাউনে ব্যাংকে লেনদেন চার ঘণ্টা         ১০০ জনকে নিয়ে হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা         দ্বিতীয় টেস্টে নেগেটিভ হয়ে দেশে ফিরছেন প্রোটিয়া নারীরা         ‘ভুয়া’ ডক্টরেট ডিগ্রি, যা বললেন মমতাজ         চাঁদ দেখা গেছে, কাল রোজা শুরু         ঘরে বসেই বৈশাখের আনন্দ উপভোগ করুন: প্রধানমন্ত্রী         ‘করোনা মহামারী কখন শেষ হবে বলা কঠিন’         আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে পিবিআইয়ের রিপোর্ট সম্পূর্ণ মিথ্যা: বাবুনগরী         যুক্তরাষ্ট্রে জনসনের টিকা ব্যবহারে স্থগিতাদেশ         সেই ‘জান্নাতী’ এখন মেডিকেল শিক্ষার্থী         ‘বিএনপি মিথ্যাচারকে রাজনীতি মনে করছে’         বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংক চালু রাখতে গভর্নরকে চিঠি         প্রথম ঘণ্টায় জমা সোয়া লাখ মুভমেন্ট পাস         রয়টার্সের ১৭০ বছরে প্রথম নারী প্রধান সম্পাদক         হেফাজতের নায়েবে আমিরের পদত্যাগ