শুক্রবার, ৩ বৈশাখ ১৪২৮
১৬ এপ্রিল ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

মুশতাক আহমেদ স্মরণে নাগরিক শোকসভা

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের ঐক্য ছাড়া, সরকারের প্রতি সমালোচনামূলক বক্তব্য ছাড়া মুক্তি নাই। চারু মজুমদার জেলখানায় মারা গিয়েছিলেন। তিনি হৃদরোগী ছিলেন এবং সময় মতো তাকে ওষুধ দেয়া হয় নাই। মুশতাকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হয়েছে। নির্যাতন করা হয়েছে কিন্তু চিকিৎসা করা হয় নাই। জেলখানাতে তার ব্যবস্থাও নাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন জেলখানায় হাসপাতালের দুর্নীতির কথা। তিনি সামারিক বাহিনীর হাসপাতাল ও জেলখানার হাসপতাল একত্রিত করার পরামার্শ দেন।’

মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক নাগরিক শোক সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে মুশতাক আহমেদসহ সকল হত্যার বিচার, মিথ্যা মামলা, হয়রানি বন্ধ ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং ভিন্নমত-সমালোচনা-গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমনের হাতিয়ার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয় এ নাগরিক শোক সভা। সভা পরিচালনা করেন মোশতাক আহমেদ।

এ শোক সভায় বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, সুশাসনের জন্য নাগরিকের বদিউল আলম মজুমদার, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নাগরিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন।

রাজনৈতিক নেতাদের ভেতর গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, নাগরিকে ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দীদারুল আলম ভ‚ইয়া, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বসদ-এর কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর গণফোরামে কেন্দ্রীয় নেতা মোকাব্বির খান (এমপি) প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, ‘এই মাহামান্য হাইকোটের বিচারপতিরা মোশতাকের মৃত্যুতে শুয়োমটো হয়ে আদেশ দিতে পারতেন। কিন্তু তারা নিরব রইলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য প্রধান বিচারপতি, পুলিশ প্রধান সবাই রাজনৈতিক কথা বলে। ফলে রাষ্ট্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের দেড় কোটি মতুয়া ভোট নিশ্চিত করতে মোদি এদেশে এসেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি। আর মোদিকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। কেননা মোদিও কিন্তু রাতের আঁধারের ভোটকে সবার আগে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এখন বর্তমান সরকার যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা আঁকড়ে বসে আছেন তা মেনে নেয়া যায় না। এই ধরনের একটি শাসন ব্যবস্থার মধ্যে আমরা থাকতে পারি না। এদেশের তরুণরা, নাগরিকরা কোন কিছু করতে গেলেই তারা বাধা দেবে। এই বাধা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আমাদের এরকম স্বৈরাচরের কবলে থাকার কথা ছিলো না।’

‘ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা আমাদের মৌলিক অধিকারগুলো ছিনিয়ে নিতে পারবো। আমাদের অনেক কিছু করার আছে। আমরা মালিকের ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। মানুষের যেটা প্রাপ্য সেটা আদায় করে নিতে হবে।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান সদস্যা আমাদের অধিকার হরণ করা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভোটাধিকার হরণ। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তিনি অন্তত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো জঘন্য আইন প্রণয়ন করতে চাইতেন না, ভোটারবিহীন নির্বাচন মানতেন না। বঙ্গবন্ধু হয়তো তাঁর ১০০তম জন্মদিনের প্রাক্কালে কবরে শুয়েও কেঁপে উঠছেন। কেননা বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধারা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছিলেন, বাংলাদেশ তার বিপরীত দিকে চলছে। ফলে আজকের সংগ্রাম হলো গণতন্ত্রের সংগ্রাম। বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে হবে। নতজানু হয়ে বেঁচে থাকার চাইলে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর জন্য মৃত্যুও ভালো।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘মোস্তাককে এমন নির্যাতন করা হয়েছিলো যে তিনি প্যান্টে পায়খানা করে দিয়েছিলেন-- কিশোরের জবানবন্দী থেকে আমরা জেনেছি। একজন বন্দী নির্যাতনের পরে রাষ্ট্রের হেফাজতে মৃত্যু হল অবশ্যই এটা রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত হত্যা। এই হত্যার তদন্ত হওয়া দরকার। কিন্তু মাননীয় প্রধানন্ত্রী তার মন্তব্য “জেলখানাতে মানুষ মারা যেতেই পারে” এই মন্তব্যের মাধ্যমে সেই তদন্ত কাজেও পানি ঢেলে দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যারা লুট করে, নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণ করে, দেশের ব্যাংকের টাকা পাচার করে, তাদের জন্য এই আইন খুবই ভালো।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘মোশতাকের মৃত্যু একটি হত্যাকাণ্ড, আমরা নাগরিকরা এর বিচার চাই? অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বলছেন মানুষ এমনিতেই মারা যায়। আমরা বলছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চাই, সরকার বলছে আইন বাতিল হবে না। জীবনের লড়াই করতে হবে। এই সময়ে আমরা যদি লড়াই করতে না পারি তাহলে মানুষ নয় জীবের জীবন যাপন করতে হবে।’

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নইম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গণবিরোধী রাষ্ট্রের চরিত্র নিয়ে জনগণের কল্যাণে কোন কিছু করা সম্ভব নয়। ফলে এই মুহূর্তেও করণীয় হলো এই অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করতে হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এই সরকার একটি জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসেছে। ফলে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা নিয়ে এ সরকারকে দমানো যাবে না। এ জন্য কিছু চিন্তাভাবনা করতে হবে। গত ৩ মার্চ ২০২১ তারিখ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর পদযাত্রায় সরকারকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিলো ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫০ বছরের আগেই এই কালো আইন বাতিল করতে হবে।’

সরকার ভয় পায় বলে জনগণকে ভয় দেখায়। এই ভয়ের অস্ত্র ভোতা করে দেয়ার জন্য কিছু কিছু অর্জন দরকার। ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে একটি অন্যতম অর্জনঅ

তিনি আরো বলেন, ‘এই সরকারের পতন এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এক সূত্রে প্রোথিত। ফলে ফ্যাসিবাদের পতন এবং রাষেট্রর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের স্বপ্নকে জনগণের মধ্যে মূর্ত করতে হবে।’

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘একটি জীর্ণ শরীরের লেখককে দেখে এই মহা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের এতো ভয়? কারণ লেখকের হাতে আছে সত্য রচনার কলম। এই সরকার মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলেই তাদের এতো ভয়। একজন মানুষকে রাষ্ট্রের হেফাজতে হত্যা করা হলো এতে রাষ্ট্রের এতোটুকু জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা নাই। এর জন্য আমাদের লড়াই করতে হবে।

লেখক মুশতাক ভয়াবহ নির্যাতনের পরেও তিনি কিশোরকে বলেছিলেন মাথা উচু করে দাঁড়া আমরা তো অন্যায় করিনি। এটা শুধু কিশোরের প্রতি আহ্বান নয় বরং পুরো তরুণ সমাজের জন্য। যারা টাকার জন্য ক্ষমতার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এই সময়ের রাজাকার হিসেবে।’

নূরুল হক নূর বলেন, ‘দেশে একনায়কতন্ত্র যারা কায়েম করতে চায় ‘তাদের জন্য তাদের আইন’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। ইস্যু অনেক আসবে আমরা অনেক আন্দোলন করবো কিন্তু এই দানবকে হটানো যাবে না। কিন্তু একটি অগণতান্ত্রিক সরকার মানুষের ক্ষমতায় রেখে মানুষের কোন অধিকার অর্জিত হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের কোন কোন জায়গা প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহিতাহীন ক্ষমতা দেয় সেটা চিহ্নিত করা দরকার। সংবিধান আমাকে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা দিচ্ছে। সেখানে একজন পুলিশ কমিশনার কিভাবে ঘোষণা দেন যে মোদির বিরুদ্ধে কথা বললে দেশদ্রোহীতা হবে। পুলিশ সরকারের ঘুটি হিসেবে সংবিধন লঙঘন করে তারাই দেশদ্রোহিতা করেছে। রাষ্ট্রের সংস্কার নিয়ে জ্যেষ্ঠরা এগিয়ে আসলে তরুণরা সাহসের সাথে লড়াই করবে।

একই মামলার আসামি দিদারুল ইসলাম ভ‚ইয়া বলেন, ‘সংবিধানের ৭/ ক তে প্রজাতন্ত্রের মালিকানা নিরঙ্কুশ করা হয় নাই, এমনকি ১৮টি মৌলিক অধিকার নিরঙ্কুশ করা হয় নাই। এই সংবিধানকে সংস্কার করতে হবে, রাষ্ট্রকে সংস্কার করতে হবে। 

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

শীর্ষ সংবাদ:
‘বিএনপি লকডাউন নিয়ে অপপ্রচারে নেমেছে’         ঝটপট মজাদার ইফতার রেসিপি         দ. কোরিয়ায় বাংলাদেশিদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা         ‘এখানেও কুৎসিত মনের কিসিঞ্জারদের হস্তক্ষেপ’         রাজশাহীতে তরুণীর লাশ উদ্ধার         যুক্তরাষ্ট্রে গোলাগুলিতে ৮ জনের প্রাণহানি         লকডাউনে দায়িত্বে থাকা ৩ ট্রাফিক পুলিশকে মারধর         ‘খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান রিপোর্ট ভালো’         ‘দেশে এক সপ্তাহে ৩০ শতাংশ মৃত্যু বেড়েছে’         শুক্রবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়         রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড: ১০ লাখ ডলার দিচ্ছে জাপান         প্রবাসীদের জন্য শনিবার থেকে বিশেষ ফ্লাইট         সিটিস্ক্যান শেষে বাসায় ফিরেছেন খালেদা         বেগম খালেদা এভারকেয়ার হাসপাতালে         কবরী লাইফ সাপোর্টে         হেফাজতের ৩ নেতা পাঁচ দিনের রিমান্ডে         পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমে সমালোচনা         গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময়সীমা বাড়ছে