বুধবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৮
২৩ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

বাদাম বিক্রেতা লতা রায়ের দায়িত্ব নিলেন এমপি আসাদুজ্জামান নূর

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: সংসারে অভাব অনটন থাকায় ১৮ বছরের লতা রায় এখন বাদাম বিক্রেতা। মেধাবী এই মেয়েটি এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেছে এ-প্লাস পেয়ে। নীলফামারী সরকারি কলেজের ছাত্রী লতা। তার প্রচণ্ড মাথার ব্যথা, যন্ত্রণা। অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসাও করাতে পারছে না লতা। তার বয়স যখন সাড়ে ৪ বছর তখন তার মা ভানুমতি রায় মারা যান। বাবা জগন্দ্র রায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই ঘরে রয়েছে হিমন রায় নামের ১৫ বছরের ছেলে। সংসারে অভাব অনটন থাকায় এখন লতা রায়ের বাবা ঢাকায় ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন।

নীলফামারী সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ডারারপাড় নিজপাড়া গ্রামের মেয়ে লতা রায় বিমাতার সংসারে অত্যাচার সহ্য করে থাকতে হচ্ছে। জীবনের স্বপ্ন সে একজন চিকিৎসক হবে। তাই নিজের ভবিষ্যত গড়তে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের লেখপড়ার অর্থ জুগিয়েছিল এতোদিন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে এ-প্লাস পেয়ে সে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। আগামী এপ্রিল মাসেই মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ার লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে লতা রায়। কিন্তু বাবার অভাবী সংসারে অর্থ জোগাতে লতা রায় রাস্তায় নেমেছিল বাদাম বিক্রি করতে। লোক চক্ষুর আড়ালে বাদাম বিক্রিতে নেমে তাকে পরিধান করতে হয় বোরখা।

লতা রায় বলেন, ‘বিশ্বাস, আশা ও ভালোবাসা জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বিশ্বাসী, আশাবাদী, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মানুষ ব্যর্থ হয় না এবং হতাশাগ্রস্তও হয় না। হতাশা আসে ব্যর্থতার গ্লানি থেকে। সাধারণত মানুষ প্রাপ্তিতে তৃপ্ত ও অপ্রাপ্তিতে অতৃপ্ত হয়। তাৎক্ষণিক লাভ-ক্ষতিকে মানুষ সফলতা ও ব্যর্থতার মানদণ্ড মনে করে এবং সেভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। তাই আমি নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে বাদাম বিক্রি করতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হই। নীলফামারী শহরে এসে দুই থেকে তিন কেজি বাদাম বিক্রি করতাম। যা লাভ হতো তা খারাপ ছিল না।’ এভাবেই আগামীদিনে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে ডাক্তার হবার স্বপ্নে অর্থের যোগান করছিল লতা।

লতা রায়ের বাদাম বিক্রির বিষয়সহ তার পারিবারিক অবস্থা স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পেরে বিষয়টি অবগত করা হয় নীলফামারী সদর আসনের সংসদ সদস্য সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে।

তিনি ঢাকায় থাকায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান, জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান পল্লবী, আওয়ামী লীগের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম, সভাপতি জাহিদ হাসান খান আলী ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে গত রবিবার বিকালে লতার বাড়ি পাঠান। সেখানে আসাদুজ্জামান নূর লতার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন এবং তার মাথা ব্যথার চিকিৎসাসহ লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় লতা রায়কে।

দ্রুততার সঙ্গে লতা রায়ের এমন দায়দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রসঙ্গে লতা বলেন, ‘এর আগে স্থানীয়ভাবে আমাকে এসএসসির ফরম ফিলাপের টাকা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দিয়েছিলেন। এইচএসসির ফরম পূরণ করেছি ঠাকুর মার বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে। তাছাড়া মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আমাকে সাহায্য করে আসছে। বিভিন্ন বন্ধু বান্ধব আমাকে সাহায্য করেন। এখন আমাদের এমপি আসাদুজ্জামান নূর আমার সকল দায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আপনারা আমার জন্য প্রার্থনা করবেন আমি যেন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে একজন চিকিৎসক হতে পারি। এলাকার গরিব দুঃখী মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে পারব।’

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম নারী ফাইটার পাইলট মাওয়া সুদান         বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোকে দেড় কোটি টিকা দেবে বাইডেন         আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ         আজ থেকে ৭ জেলার ট্রেন চলাচল বন্ধ         'শিগগিরই পরীক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে’         রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সেনা প্রধানের সাক্ষাৎ         নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচনে ৪ নারীসহ বাংলাদেশি ১৩ প্রার্থী         ‘নিজেকে সর্বোচ্চ যোগ্য’ করতে যোগব্যায়াম করছেন পরীমনি         বন্ধ করে দেওয়া হলো ঢাকার সব যাত্রীবাহী ট্রেন         ‘তাহসানের ওপর রাগ নেই, যত রাগ আমার ওপর’         পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধে সচেতনতা গড়তে হবে         বেশি বয়সেও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন সম্ভব         পীরগঞ্জে এমকেপি মানব কল্যাণ পরিষদ’র সংলাপ সভা         টাঙ্গাইলে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি         বিদেশে যেভাবে নারী পাচার করতেন নদী         ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর         খালেদাকে বিদেশে নিতে সরকারের কাছে বিএনপির দাবি         ফিটনেস আইকন ৮৩ বছরের নারী!         ‘ইমরান তো বোরকা পরা মেয়ে দেখে উত্তেজিত হয়েছে’         সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট হলেন মীম!