সোমবার, ৫ বৈশাখ ১৪২৮
১৯ এপ্রিল ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘সালিশ বিচারের নামে আইনবিরোধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে’

রাশেদা কে চৌধুরী: বাংলাদেশে নারীর অগ্রগতি সবক্ষেত্রেই মোটামুটি দৃশ্যমান। বিশেষ করে সংখ্যার দিক থেকে। প্রাথমিক মাধ্যমিক শিক্ষায় ছেলেমেয়ের সমতা নিশ্চিত হয়েছে। এখন বেশিরভাগ নারীশিক্ষক। শিক্ষায় উঁচ্চতর পর্যায়েও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। স্বাধীনতার সময় উঁচ্চ শিক্ষায় যেখানে ১০-১২শতাংশ ছিলো এখন সেটা প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু উঁচ্চ শিক্ষায় যাওয়ার যারা সুযোগ পায় তারা বেশিরভাগই স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। উঁচ্চ শিক্ষায় এখনো অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা যাওয়ার সুযোগ পায় না। তার কারণ হলো উঁচ্চশিক্ষা ব্যয়বহুল। অর্থনীতিতেও নারীর অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ নারীর কারণেই আজকে সারা বিশ্বে স্বীকৃত। নারীর অংশগ্রহণ গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। পাঁচ লক্ষের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার বেশিরভাগই নারী। তিন লক্ষেরও ওপরে নারী। সেখানে নারীর অংশগ্রহণ অনেক বেশি দৃশ্যমান। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে নারী অনেক দূর এগিয়েছে। পোশাক শিল্প ছাড়াও চা শিল্পে নারীরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই সব প্রতিষঠানে নারী শ্রমিক হিসেবে বা উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। গবেষণা বলছে, কৃষিতে ২১ টি কাজের মধ্যে ১৭টি কাজ নারীরা সম্পাদন করে। স্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচিতে নারীর অনেক অবদান রয়েছে। শিশু মৃত্যু ও মাতৃমৃত্যু রোধে বাংলাদেশের নারীরা সচেতন হয়েছে, এগিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের একটি অভাবনীয় জায়গা হলো ২৯ বছর ধরে নারী সরকার প্রধান। পৃথিবীর ইহিহাসে এটি বিরল। নারী সরকার প্রধান হওয়ায় নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়েছে। নারীর পদচারণা দৃশ্যমান সর্বত্র। তৃণমূল থেকে হিমালয় শিখর। গ্রামীণ অর্থনীতি, নগর অর্থনীতি, শিল্প প্রতিষ্ঠান, সাস্থ্য, শিক্ষা, রাজনীতি এবং প্রশাসনেও নারী আছে এখন। বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে নারী কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নারীরা কাজ করছেন। এমনকি শান্তিরক্ষা মিশনেও নারী আছে। চিকিৎসা, প্রকৌশল, স্থপতি হিসেবে নারীরা নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে, ভাইস চ্যান্সলর হিসেবে, আইনপেশা ও গণমাধ্যমে, এককথায় সর্বক্ষেত্রে নারীর পদচারণা দৃশ্যমান। এর ফলে বাংলাদেশকে নারীর ক্ষমতায়নে একটি রুল মডেল ধরা হয়।

পবিবার ও সমাজ থেকে নারীর ওপর একটি চ্যালেঞ্জ আসে। সরকারের নারীবান্ধব নীতি থাকা সত্ত্বেও পরিবার থেকে নারীকে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়। গণমাধ্যম কর্মীরা রাতে কাজ করতে পারেন না, পরিবার থেকে আপত্তি আসে। পরিবার, স্বামী সন্তান নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় বলে কর্মক্ষেত্রেও তার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। সাম্প্রতিক কালে সর্বত্র নারীর প্রতি সহিংসতা খুব বেড়েছে। নারীর চলাচল ও গণপরিবহন আমরা নিরাপদ করতে পারিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নুসরাতের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এমন অনেক ঘটনা ঘটে যেগুলো আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়, প্রকাশ হয় না, গণমাধ্যমেও আসে না। কর্মস্থলেও নারী সহিংসতার শিকার হয়। ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে নিজের ঘরেই নিগৃহীত হন। এতেই বোঝা যায় নারীর এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে এক বিশাল প্রতিবন্ধকতা হলো নারীর প্রতি সহিংসতা। সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আছে, অনেক নীতি আছে, অনেক আইন আছে। সম্প্রতি ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করা হয়েছে। তারপরেও সহিংসতার লাগাম টানা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা খুব কঠিন কারণ রাজনীতি এখন অর্থবিত্ত, প্রতিপত্তি ও পেশীশক্তির মধ্যে পড়ে গেছে। সবগুলো রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যে দলের সর্বস্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় এক-তৃতীয়াংশ নারীকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হবে। সেটা এখনো কার্যকর করা হয়নি। অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। যতোক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা না হয় ততোক্ষণ পর্যন্ত অপরাধীরা দৃষ্টির আড়ালে পালিয়ে বেড়ায়। পরিবারগুলো অনেক সময় অপরাধীদের আশ্রয় দেয়। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ রোধ ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে স্থানীয় সরকারের ভূমিকাটা আমরা অনেক সময় দেখি না। কেন্দ্রীয় সরকার ঢাকায় বসে কিছু করতে পারবে না, স্থানীয়ভাবেই এই কাজ করতে হবে। সালিশ বিচারের নামে যারা আইনবিরোধী কাজ করেন তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও আইন অনেক শক্ত। কিন্তু প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে পিছিয়ে গেলে নারীর অংশগ্রহণ আমরা দেখাতে পারবো না, অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নটা হঠাৎ করে বাড়বে না।

লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। 
 

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

শীর্ষ সংবাদ:
নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা         সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়ঙ্কর গুজব ছড়ানো হচ্ছে         সৌন্দর্য রক্ষায় আম         বইয়ের আদলে দৃষ্টি নন্দন ফলক         মামুনুলের সাত দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ         সিলভার বাটন পেলেন বিউটি এক্সপার্ট আফরোজা পারভীন         হেফাজতের বিরুদ্ধে আরো ৬২ আলেমের বিবৃতি         ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী         ‘যেনো পরম আত্মীয় এলাকা ছেড়ে দূরে চলে গেলেন’         মাত্র এক তৃতীয়াংশ হতদরিদ্র পায় সরকারি সহায়তা         ‘জনাব, কিছু ফেলে গেলেন কি?’         পরিচয়পত্র চাওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তুলকালাম         আফগানিস্তানে ৮ মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা         ৪ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারের জরিমান         'হাসপাতালে ১০ গুণ বেশি রোগী'         মামুনুল হক যেভাবে গ্রেফতার হন         কানাডার অন্টারিও প্রদেশে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ         ‘হাসপাতালে ভর্তির ৫ দিনেই ৪৮ শতাংশ মৃত্যু’         ‘অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়ান’         চলচ্চিত্র সাংবাদিক শফিউজ্জামান মারা গেছেন         বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের ৭৫ লাখ ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক