বুধবার, ৩০ চৈত্র ১৪২৭
১৪ এপ্রিল ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘ফেসবুক এখন পড়াশোনা ও জ্ঞানার্জনের একটি সাবজেক্টও’

শওগাত আলী সাগর: ১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অনেকেই আছেন, যাদের বক্তব্যে নতুন চিন্তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক কিছুকেই নতুন করে, নতুন অ্যাঙ্গেলে দেখার একটা আগ্রহ তৈরি করে। এঁদের আমি মনোযোগের সাথে অনুসরণ করি, কখনো কখনো অনুকরণও করি। ভার্চুয়াল কিংবা রিয়েল, সবক্ষেত্রেই আমার মনোযোগ থাকে নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু শেখা। যার সঙ্গ আমাকে নতুন কিছু শেখায় না, নিদেনপক্ষে আনন্দ দেয় না- সেই সঙ্গ আমাকে বেশিক্ষণ টানতে পারে না।

২.  ফেসবুক নিয়ে মুশফিক ওয়াদুদ একটা পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার একটা হাইপোথিসিস হচ্ছে, স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না। বরং উপকার করে। উপকার করে এ অর্থে  যে, মানুষের ক্ষোভের ভেন্টিলেশন হয় এবং তারপর এই ক্ষোভ কিছুদিন পর হারিয়ে যায়।’
তার পরপরই মুরাদুল ইসলাম তার নিজের একটি পোষ্টে  লিখেছেন, যখন ফেসবুকে কেউ কোনো বিষয়ে মত দেন, তার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা অনেকে এই বিষয়ে সেকন্ড থট দেন। এভাবে, মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মাণ হয়। কোনো সমাজের ন্যারেটিভ বাজে হইলে বুঝতে হবে, এই সমাজে বাজে লোক বেশি এটাই না, এই সমাজে ন্যায় ন্যারেটিভে কথা বলার মত অল্প লোকও নাই।’
মুশফিক এবং মুরাদুলকে আমি ফেসবুকে নিবিড়ভাবে ফলো করি। মুরাদুলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো বেশ কয়েক বছর আগে তার অণুগল্প পড়ে। মুশফিকের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার ফেসবুকের পোস্ট  পড়ে। এদের দুজনের কেউই আমার চিন্তার শতভাগ সমর্থক কিংবা আমি তাদের চিন্তার সমর্থক- বিষয়টা এমন না। কিন্তু এদের চিন্তার স্টাইল এবং দেখার চোখটা আমার পছন্দ।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক নিয়ে সারা দুনিয়ায় এখন বড় বড় গবেষণা হচ্ছে। এসব নিয়ে পশ্চিমের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পণ্ডিতদের লেখা বইয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর সেল্ফ ঠাসা। ফেসবুক এখন কেবল নিজের বক্তব্য দেয়ার প্লাটফরমই না, ফেসবুক এখন পড়াশোনার, জ্ঞানার্জনের একটি সাবজেক্টও।  

৪. মুশফিকের ‘স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না’ এবং মুরাদুলের ‘মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মাণ হয়’- এই দুটি বক্তব্য নিয়েই আলোচনার সুযোগ আছে। আমি নিজে মনে করি, এগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকারও। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া আমরা আসলে কীভাবে ব্যবহার করছি- সেই আলোচনাও প্রয়োজনীয়। ব্যক্তিজীবনে আপনার বাড়িঘর, বাড়ির চারপাশ এবং আপনার মেলামেশা বা আত্মীয়তা করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, ভার্চুয়াল জগতকে সাজানোর ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার বলে আমার নিজের মনে হয়।

৫. সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে মুশফিক এবং মুরাদুলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার নিজের কিছু বক্তব্য আছে। সেগুলো আলাদাভাবে কখনো বলা যাবে। আপাতত সাংবাদিকতায় আমার প্রথম সম্পাদক আলম রায়হানের একটা কথা এখানে উল্লেখ করি। সাংবাদিকতায় প্রথম কর্মস্থল ‘সাপ্তাহিক সুগন্ধা’র সম্পাদক ছিলেন আলম রায়হান। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন, ‘শুনেন, পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে। কারো লেখা যদি তার নিজের ভাবনার সাথে, চিন্তার সাথে মিলে যায়- তা হলে সেই লেখক, সাংবাদিককেও সে জ্ঞানী লোক মনে করে। নিজের চিন্তার বিপরীত হলে তাকে নানা উপাধিতে ভূষিত করে গালাগালি করে।’
আলম রায়হানের এই কথাটাই আজকাল সবচেয়ে সত্য বলে আমার কাছে মনে হয়। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

শীর্ষ সংবাদ:
আজ পহেলা বৈশাখ         কোন এক বৈসাবিতে         সুস্থ থাকতে সেহরিতে যে সকল খাবার খাওয়া উচিত         শিথিল লকডাউনে যুক্তরাজ্যে উৎসবের আমেজ         ক্রিকেটার সাকিবের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেন মিথিলা         লকডাউনে ব্যাংকে লেনদেন চার ঘণ্টা         ১০০ জনকে নিয়ে হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা         দ্বিতীয় টেস্টে নেগেটিভ হয়ে দেশে ফিরছেন প্রোটিয়া নারীরা         ‘ভুয়া’ ডক্টরেট ডিগ্রি, যা বললেন মমতাজ         চাঁদ দেখা গেছে, কাল রোজা শুরু         ঘরে বসেই বৈশাখের আনন্দ উপভোগ করুন: প্রধানমন্ত্রী         ‘করোনা মহামারী কখন শেষ হবে বলা কঠিন’         আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে পিবিআইয়ের রিপোর্ট সম্পূর্ণ মিথ্যা: বাবুনগরী         যুক্তরাষ্ট্রে জনসনের টিকা ব্যবহারে স্থগিতাদেশ         সেই ‘জান্নাতী’ এখন মেডিকেল শিক্ষার্থী         ‘বিএনপি মিথ্যাচারকে রাজনীতি মনে করছে’         বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংক চালু রাখতে গভর্নরকে চিঠি         প্রথম ঘণ্টায় জমা সোয়া লাখ মুভমেন্ট পাস         রয়টার্সের ১৭০ বছরে প্রথম নারী প্রধান সম্পাদক         হেফাজতের নায়েবে আমিরের পদত্যাগ