বৃহস্পতিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭
২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

ইতিহাসের পাতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদার হওয়ার পর আসন্ন স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা কি হবে? সে প্রশ্নে মহাত্মা গান্ধী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে পত্র লেখেন, জবাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখেন-‘ভারতের সাধারণ ভাষা তথা আন্তঃপ্রাদেশিক যোগাযোগের একমাত্র ভাষা হতে পারে ‘হিন্দি’।

পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহুত এক আলোচনা সভায় বহু ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্পষ্টভাবে জানান, উপমহাদেশের তিনটি ভাষা বাংলা,হিন্দি ও উর্দু। তিনটিই স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। যদিও তৎকালীন সময়ে সর্বভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে হিন্দুদের হিন্দি ও মুসলিমদের উর্দু ভাষার প্রতি দুর্বলতা ছিল।

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের পর ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে মুসলিম লীগের আইন সভার সদস্যদের এক কনভেনশনে ওই প্রস্তাবের আংশিক সংশোধন করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারতবর্ষ ও পূর্ববঙ্গকে রাষ্ট্রের একটি প্রদেশ করে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়।
ভারতবর্ষের রাষ্ট্রভাষা ‘হিন্দি’ রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে নির্ধারিত হলেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে, তা নির্ধারিত হওয়ার পূর্বেই রাষ্ট্র গঠিত হয়ে যায়। পাকিস্তান গঠনের প্রাক্কালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. জিয়াউদ্দিন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা একমাত্র উর্দু হওয়া উচিৎ’ বলে অভিমত দিলে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তার তীব্র প্রতিবাদ করেন।

নব প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ আমলাদের অধিকাংশই অবাঙালি হওয়ার দরুন সরকার বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত করতে থাকে। যার প্রকাশ পায়, নতুন পোস্টকার্ড, মানি অর্ডার ফর্ম, এনভেলপ প্রভৃতিতে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুর ব্যাবহার দেখে। ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠিত সাংস্কৃতিক সংস্থা তমদ্দুম মজলিশে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শীর্ষক পুস্তিকার মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের শুরু।

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড