মঙ্গলবার, ৩০ চৈত্র ১৪২৭
১৩ এপ্রিল ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

ডিজে নেহার অন্ধকার জগৎ

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বান্ধবী ফারজানা জামান ওরফে ডিজে নেহাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে অন্ধকার জগতের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার গ্রেফতারের পর পরদিন শুক্রবার ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে নেহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার রিমান্ডের চতুর্থ দিনে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন নেহা।

নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে অশ্লীল জগতে পা বাড়ানো নেহার টার্গেট ছিল ধনী পরিবারের তরুণ-তরুণীরা। বিশেষ করে নামীদামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিকেই ছিল তার বিশেষ আকর্ষণ। টার্গেটকৃতদের সঙ্গে সখ্য তৈরিতে তার হয়ে একাধিক উচ্ছৃঙ্খল তরুণ-তরুণী মাঠপর্যায়ে কাজ করত। তাদেরকেও বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা দিতেন ডিজে নেহা। শিশা পার্টি, মদ পার্টি এবং অশ্লীল নাচের আয়োজনে দাওয়াত পেত সমাজের উচ্চবিত্তের সন্তানরা, যারা নেহার হাত ধরেই বেলাল্লাপনায় জড়িয়ে পড়ে।

নেহার বাবা একজন মাঝারি স্তরের ব্যবসায়ী। থাকেন রাজধানীর আজিমপুরে। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকায়। অন্যদিকে নেহার মা থাকেন মিরপুরে। দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাবা-মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। একরকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে বেড়ে ওঠেন নেহা।

পড়াশোনার দৌড়ও বেশি দূর নয়, স্কুলের গণ্ডিতেই তার সমাপ্তি ঘটে। মেধাবী হলেও পরিস্থিতির কারণে পড়াশোনায় এগোতে পারেননি তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নেহা বিপথে যাওয়ার নেপথ্যে তার বাবা-মায়ের দ্বন্দ্ব ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্য।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, কয়েক বছর আগে লন্ডনপ্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে নেহার বিয়ে হয়। ওই প্রবাসী লন্ডনে গিয়ে নেহাকেও তার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা অজুহাতে নেহা সেখানে যেতে পারছিলেন না। লন্ডনে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টাও নাকি করেছিলেন। তবে নেহার বিয়ের বিষয়ে পুলিশ সন্দিহান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নেহা জানিয়েছেন, মূলত বিলাসী জীবনযাপনের জন্যই এই পথ বেছে নেন তিনি।

‘রাতভর মাস্তি হবে আনলিমিটেড। আনন্দ দিতে পুরো টিম নিয়ে প্রস্তুত আমরা। এই আয়োজন আপনার জন্যই। আমাদের টিমে রয়েছে বেশ কিছু অসাধারণ সুন্দরী, স্মার্ট, ভদ্র, শিক্ষিত মেয়ে ও ভাবি বয়সের নারী। বিটের তালে তালে নাচে-গানে মুগ্ধ হতে, অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে অংশ নিন আমাদের আয়োজনে।’ এভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতেন নেহা।

এসব পার্টিতে অংশ নেন ব্যবসায়ী, মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরিজীবী ও বিত্তশালী পরিবারের সন্তানরা। গুলশানের নিকেতন, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হয় এসব পার্টির। কখনো কখনো নৌবিহারের আয়োজন করা হয়।

বিলাসবহুল লঞ্চে নাচ-গান থেকে শুরু করে থাকে চিত্ত বিনোদনের যাবতীয় আয়োজন।

নেহার দামি পোশাক থেকে শুরু করে হাতের মোবাইলফোনটি উপহার পাওয়া। নেহা ব্যবহার করেন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের আইফোন টুয়েলভ প্রো ম্যাক্স। এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রথমবার মেশার পরই এই ফোনটি গিফট পান তিনি। এ জন্য নিজ থেকেই একটা দামি ফোন প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ীকে। চট্টগ্রামের ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল আরও কয়েক ডিজে ও মডেলদের।

৭ ফেব্রুয়ারি রোববার রিমান্ডের তৃতীয় দিনে নেহার ফোনবুকে পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ডজনখানেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর নাম্বার পেয়েছে। যেগুলো সাংকেতিকভাবে সংরক্ষণ করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নেহা। কখনো কখনো রেগে যান। তিনি জানান, সমাজে ভালো মানুষের মুখোশ পরা যারা তাদের অনেকের আসল চরিত্র তার জানা। এখন তাকে সবাই খারাপভাবে দেখছে। কিন্তু যারা তাকে ডাকেন, যারা এসব পার্টিতে অংশ নেন, রাতভর নারী ও মদে বুঁদ হয়ে থাকেন, তাদেরকে কেউ খারাপ বলার সাহস পাবে না। তবে এ বিষয়ে তিনি কারও নাম বলতে চান না।

তার মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে অসংখ্য খুদেবার্তা। বিভিন্ন ধরনের ছবি, ভিডিও, টিকটক। এসব ছবিতে স্বল্প পোশাক পরা নেহা। পাশে বসা, দাঁড়ানো যুবক ও মধ্যবয়সী পুরুষ। ছবি রয়েছে অনেক তরুণীর সঙ্গেও।

জিজ্ঞাসাবাদে পার্টির আয়োজকদের সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন নেহা। তিনি জানিয়েছেন, এটা গোপন কিছু না। সবাই জানে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়েও পার্টির আয়োজন করা হয়। একান্তে সময় কাটানোর জন্য ডজনখানেক বিভিন্ন বয়সের নারী থাকে এসব পার্টিতে। কমার্শিয়াল পার্টিতে নতুন ক্লায়েন্টদের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর ব্যক্তিগত যোগাযোগ গড়ে ওঠে বলে জানান তিনি।

গত ২৮ জানুয়ারি উত্তরার ব্যাম্বু স্যুট রেস্টুরেন্টে ইউল্যাব শিক্ষার্থীদের মদ্যপান করাতে নেহা ও তার খুব কাছের বন্ধু আরাফাত পার্টির আয়োজন করেন। মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে আরাফাতও মারা গেছেন। সেদিন নেহার ফোনেই তার চাচাতো ভাই শাফায়াত জামিল ওরফে বিশাল এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে মদ কিনে নিয়ে যান ওই রেস্টুরেন্টে। নেহা পুলিশকে জানিয়েছেন, খদ্দেরদের তালিকা সংরক্ষণ করতেন বিশাল। এ ছাড়া অবৈধ দরদামে তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মাধুরীর মৃত্যুর পর তার বাবার মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে নিজেই আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বিশাল। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এছাড়া ওই ছাত্রীর ছেলেবন্ধু আরিফ এবং তাদের বাসায় আশ্রয়দাতা তাফসিরও কারাগারে আটক রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি ডিজে নেহাকে রাজধানীর আজিমপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গোপন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নেহার অপরাধ নেটওয়ার্কিংয়ে মাধ্যমেই উল্লেখ্য ৫ জন একে অপরের বন্ধুতে রূপান্তরিত হন বলে জানা গেছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ বলেছেন, নেহাকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। এসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। যদি মামলার তদন্তের স্বার্থে লাশ তোলা প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে তোলা হবে।

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

শীর্ষ সংবাদ:
রাশিয়ায় ভূতুড়ে রেডিও স্টেশনের সন্ধান         ভারতে কোরআনের আয়াত অপসারণের ‘রিট’ বাতিল         ফারুকের অবস্থার উন্নতি         আজ ব্যাংকে লেনদেন চলবে বেলা ১০টা-৩টা পর্যন্ত         প্রতি থানায় বাঙ্কার, মেশিনগান         তারাবিসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ২০ জনের বেশি নয়         ‘ডক্টর অব মিউজিক’ সম্মানে ভূষিত মমতাজ         মমতার প্রচারণায় ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা         ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক জিনাত হাকিম         মা কাজলের ছবির গানে নেচে প্রশংসায় ভাসছেন নাইসা         মঙ্গল শোভাযাত্রা হচ্ছে না এবারও         লকডাউনে বাইরে যেতে ‘মুভমেন্ট পাস’         লালনশিল্পী ফরিদা পারভীন হাসপাতালে         আহমদ শফী হত্যা প্ররোচনা: বাবুনগরী ও মামুনুলকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল         ‘বিরোধী দলের শূন্যতায় উগ্রবাদের সৃ‌ষ্টি হয়’         ‘ধর্মনিষ্ঠরা এটুকু মানলেই যথেষ্ট’         ঢাকা ছাড়ছে মানুষ, পাটুরিয়ায় গাড়ির চাপ         ‘একজন ডজন লোককে নিয়ে মরতে চায়’         লগডাউনের বিধিনিষেধে চলার নির্দেশনা         হুমায়ূন আহমেদের হারিয়ে যাওয়া চিত্রকর্ম প্রদর্শনের অভিযোগ