রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

গুজবে নয়, বিজ্ঞানে আস্থা রাখুন

পরীক্ষিৎ চৌধূরী: অবশেষে অতীতের মতো এবারও হালে পানি পেলো না গুজব। কোন গুজবেই কাজ হলো না। অপপ্রচারকারীদের মুখে ছাই দিয়ে দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে করোনা টিকা গ্রহণকারী ৫৭৭ জনের সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ ও ভালো আছেন। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তাদের প্রতেক্যের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। টিকা নেয়ার দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেও তাদের মধ্যে কোনো ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

২৭ জানুয়ারি দেশে প্রথম করোনার টিকা নিয়েছেন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা। গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেল, টিকা নিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন তিনি। বাসায় কোনো কাজের লোক নেই। বাসার সবকাজ তাঁকেই করতে হয়। টিকা নেওয়ার পরও তিনি সামলাচ্ছেন অফিস ও ঘর দুটোই। ঐদিনই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রথম টিকা নিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের মতিঝিল বিভাগের কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। আগের মতোই স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন বলে জানান তিনি। টিকা নিয়ে রাতে জার্নি করে চট্টগ্রাম গিয়েছেন ডা. ফরহাদ উদ্দিন হাসান চৌধুরী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে তিনি প্রথম টিকা নিয়েছেন। পরদিন সকালে চট্টগ্রামের চেম্বারে রোগী দেখেছেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দম্পতি ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল-অধ্যাপক ডাঃ নুজহাত চৌধুরী টিকা নিয়েছেন। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ এবং চিকিৎসক দম্পতি সকলেই একমত প্রকাশ করেছেন যে তাদের অন্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।  

সব শঙ্কা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে বাংলার মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কত দ্রুত ভ্যাকসিন নিয়ে তাঁরা করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন সেই সময়ের জন্য। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা প্রমাণিত যে, টিকা ছাড়া কোভিড-১৯ থেকে মুক্তি নেই। অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষকে টিকা নিতে হবে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্ত রোগীর দিক থেকে ৩১তম স্থানে আছে বাংলাদেশ। আর মৃত্যুর সংখ্যায় রয়েছে ৩৮তম অবস্থান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে টিকাদানের শুভসূচনা করেছেন বাংলাদেশে, সেই টিকার ফর্মূলা তৈরি করেছেন বৃটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। দেশে যে ভ্যাকসিন এসেছে সেটা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট প্রস্তুতকারক মাত্র। সেরাম ইনস্টিটিউট পৃথিবীর বড়ো ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক; যারা প্রতিমাসে প্রায় ১০ কোটি টিকা তৈরি করে। শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, মরিশাস ও ব্রাজিলেও বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় এ টিকা পাঠানো হবে। কোভিশিল্ড দেওয়া হলে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শুরু করে এবং যে কোনো রকম করোনাভাইরাস দেহে ঢুকে পড়লে, তাকে আক্রমণ করতে শিখে যায়।

সত্যি বলতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের এতো বিশাল প্রডাকশন এই মুহূর্তে সেরাম ছাড়া অন্য কেউ এতো স্বল্প মূল্যে  দিতে পারবে না। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় ধরে ভ্যাকসিন উৎপাদন করে আসছে। তারা দুনিয়ার  সবচাইতে বড়ো ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। সেরাম প্রতিদিন তেইশ লক্ষ করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম। মাসে পঞ্চাশ মিলিয়ন। তাদের টার্গেট এক বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদন যা আনুমানিক ৪০টি দেশে রপ্তানি করবে। এই মুহূর্তে একমাত্র তারাই এতো বৃহৎ স্কেলে অক্সফোর্ডের ফর্মূলায় ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম।

যারা বাংলাদেশে আসা ভ্যাকসিন নিয়ে গুজব রটাচ্ছে তারা বোধহয় জানেন না, হেপাটাইটিস বি, বিসিজি, সোয়াইন ফ্লু ভ্যাকসিন, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সাপের কামড়ের প্রতিষেধকসহ বহু বহু ভ্যাকসিন সেরামের তৈরি। আরো বলে রাখি, এটা ফাইজারের তৈরি টিকার মতোই কার্যকর এবং এর চাহিদা এখন বিশ্বব্যাপী। ফাইজার তাদের টিকা তৈরি করে চাহিদা কুলিয়ে উঠতে পারছে না। তাই ব্রিটেনে ফাইজারের টিকার সঙ্গে অক্সফোর্ডের টিকাও দেওয়া হচ্ছে।

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড