সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
০১ মার্চ ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘নিজ সহধর্মিনীর জন্য সাপোর্ট হতে শিখুন, কম্পেটিটর না’

রুমানা মঞ্জুর, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া গ্রাজুয়েশন সিরিমনি ২০১৭

ফাতিমা জান্নাত মিম: ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কানাডা- অসংখ্য জ্ঞানী-গুণীদের মিলনস্থল। আজকে এমনই এক নারীর গল্প শোনাবো- যার নাম রুমানা মঞ্জুর। ছিলেন ঢাকা ভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। ছিলেন ফুল ব্রাইট স্কলারও।

অনেক স্বপ্ন নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (UBC) তে পলিটিক্যাল সায়েন্স পড়তে আসেন। ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন স্বামী ও পরিবারের সাথে দেখা করতে ও থিসিসের কাজ করতে। পাষন্ড স্বামী তাকে পড়তে ফিরে যেতে বাধা দেয়। তার চোখে আঘাত করে চিরতরে তাকে অন্ধ করে দেয়। পড়াশুনা থেকে বিচ্ছিন্ন করাই উদ্দেশ্য ছিল। অপরাধ ছিল তার একটাই- রুমানা পড়তে চেয়েছিলেন, জীবনে আরো বড় হতে চেয়েছিলেন।

শত প্রচেষ্টাতেও তার চোখ অপারেশন করেও ঠিক করা যায়নি। UBC এই সময় তাকে সম্পূর্ণ সাপোর্ট দেয়। UBC এর ছাত্ররা পাষন্ড স্বামীর বিচারের জন্য ক্ষোভ সমাবেশ করে। জেল হাজতে জানোয়ারটা মারা যায় কিছুদিন পরেই।

রুমানা দমে যাননি। অন্ধ চোখ নিয়েই তিনি তার মা ও সন্তানসহ কানাডাতে ভ্যানকুভারে ফিরে আসেন, UBC-তে পড়াশুনা শেষ করেন।

তারপর চান্স পান UBC এর প্রেস্টিজিয়াস পিটার এ. এলার্ড ল' স্কুলে। যেখানে খোদ ক্যানাডিয়ানদের চান্স পেতে হিমশিম খেতে হয়। ল' পড়া শেষ করে ২০১৭ সালে। ২০১৮ সালে কানাডার বিচার বিভাগে যোগদান করেন, যেখানে এখনোও তিনি কর্মরত আছেন।

তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে তাকে জীবন থেকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের নারীদের আজও এভাবে শিক্ষার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। ভয়ের বিষয় হলো খোদ সুশিক্ষিত সমাজের অনেক পুরুষদের মাঝেও এখনো অনেক ছোট মানসিকতা রয়েছে যে তার স্ত্রীকে বেশিদূর পড়তে দেয়া যাবেনা।

রুমানার মত শত শত বাংলাদেশি মেয়েদের স্বপ্ন অংকুরেই নষ্ট করার জন্য এই পুরুষ নামের কিছু মেরুদণ্ডহীন কেঁচোরা উঠে পড়ে লাগে। ক্যারিয়ার ও পড়াশোনার বিষয়ে হিংস্র জানোয়ারের মত সহধর্মিনীদের সাথে আচরণ করে। কিসের এত প্রব্লেম? হাসবেন্ডের চেয়ে বেশী একাডেমিক ডিগ্রি ওয়াইফ নিয়ে ফেললে এতে হাসবেন্ডের পজিশন নিচু হয়ে যায়না। নিজ সহধর্মিনীর জন্য একটা সাপোর্ট হতে শিখুন, কম্পেটিটর না- এই শিক্ষাটা আমাদের দেশের স্কুলের বইগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক যেন আর কোনো রুমানাকে এভাবে পড়াশুনার জন্য চোখ হারাতে না হয়।
  

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড