সোমবার, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭
০৮ মার্চ ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

নারী নির্যাতন দমনের নতুন আইনের সুপারিশে যা থাকছে

  • নারী নির্যাতন দমন আইন, ২০২১’ নামের প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ১৬ বছরের নিচে কোনো শিশুর সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাও ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
  • ধর্ষণের ঘটনায় আইনানুগ গর্ভপাতের বিধান রাখা হয়েছে।
  • প্রস্তাবিত আইনে বিচারকালে ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না আসামিপক্ষ।
  • থাকছে গৃহকর্মী নির্যাতনে শাস্তির বিধানও।

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনের পরও কমেনি ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার হার। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বেড়েই চলেছে। তাই এবার ধর্ষণসহ নারী নির্যতন দমনে নতুন আইনের সুপারিশ করেছে আইন কমিশন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আইন কমিশন সম্প্রতি ১৩ পৃষ্ঠার প্রস্তাবনা ও ২৯ পৃষ্ঠার নারী নির্যাতন দমন আইনের খসড়া সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়া পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ‘নারী নির্যাতন দমন আইন, ২০২১’ নামের প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হলে আইনানুগভাবে গর্ভপাতের বৈধতা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৬ বছরের নিচে কোনো শিশুর সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাও ধর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ধর্ষণের সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য, তদন্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের জবাবদিহির বিষয়েও বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর প্রতিপালনের জন্য ধর্ষক পিতা বা রাষ্ট্রের কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার বিধানও যুক্ত  করা হয়েছে প্রস্তাবিত খসড়ায়। প্রস্তাবিত খসড়ায় ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি যে কোনো মেয়াদের দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা বিচারককে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কোনো অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে কী কারণে ওই দণ্ড দেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা রায়ে বিচারককে উল্লেখ করতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনে বিচারকালে ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারবে না আসামিপক্ষ। এ উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে খসড়ায়। একই সঙ্গে গৃহকর্মীর ওপর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টিও অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি ও শাস্তির বিধান রেখে নারী নির্যাতন দমন আইনের পূর্ণাঙ্গ নতুন খসড়া প্রণয়ন করেছে আইন কমিশন।

এ বিষয়ে আইন কমিশনের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ফউজুল আজিম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন বেড়ে গেছে। এসব দমনে বর্তমানে যে আইনটি রয়েছে তা ২০ বছর আগের। এ জন্যই আইনটি যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে মাঠপর্যায়ের গবেষণা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মতামত, দেশ-বিদেশের উল্লেখযোগ্য রায়ের ভিত্তিতে নতুন এ আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ইতিবাচক পদক্ষেপ। বিল আকারে সংসদে উপস্থাপনের জন্য খসড়াটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এ আইনের বিষয়ে বাকি কাজ মন্ত্রণালয়ই করবে বলে জানান তিনি।

নতুন আইন তৈরির প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে আইন কমিশনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ প্রণয়নের পর প্রথম দিকে কয়েক বছর মোটামুটি প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছিল। তবে এখন আইনটি প্রণয়নের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য পূরণ সন্তোষজনক নয় বলে সাম্প্রতিক গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। আইনের অপপ্রয়োগের হারও আশঙ্কাজনক। যে কারণে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করতে ও গুরুদণ্ড আরোপে সাবধানতা অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছেন বিচারকরা। তা ছাড়া ২০১৩ সালে শিশু আইন নামে একটি পৃথক আইন করা হয়েছে, তাই শুধু নারীর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নারী নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।

আইন কমিশন বলছে, যেহেতু নারী বলতে সব বয়সের নারী বোঝায় সেহেতু মেয়েশিশুরা নারী জাতিভুক্ত এবং নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত বিশেষ অপরাধসমূহ অর্থাৎ ধর্ষণ শিশুসহ যে কোনো বয়সের নারীর ওপরই সংঘটিত হতে পারে। এ জন্য নারী শিশু ও পুরুষ শিশু উভয় শিশুর ওপর সাধারণভাবে সংঘটিত অপরাধগুলো একটি পৃথক আইনের আওতাভুক্ত করাই বাঞ্ছনীয়। এ কারণে বিদ্যমান আইনের ওপর বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের মতামত নেওয়া হয়। পরে বিদ্যমান আইনটি পর্যালোচনা শেষে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন আইনের খসড়া করে কমিশন।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিদ্যমান আইনেও ধর্ষণের শাস্তির বিধান রয়েছে; কিন্তু ধর্ষণের সংজ্ঞা ১৮৬০ সালের পেনাল কোডে বর্ণিত সংজ্ঞাই রয়ে গেছে। বিশ্ব পরিস্থিতিতে নানা প্রকৃতির ধর্ষণ ঘটেছে। উন্নত বিশ্বে অনেক যৌন নির্যাতনকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কাজেই বর্তমান বাস্তবতায় ধর্ষণের সংজ্ঞা সম্প্রসারণ প্রয়োজন। তা ছাড়া ধর্ষণ ছাড়াও বিকৃত যৌন অপরাধগুলোও সংজ্ঞায়িত করে শাস্তির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এ জন্য আইনে ধর্ষণসহ সংশ্লিষ্ট ১৪টি বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড