সোমবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
০১ মার্চ ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

যুক্তরাজ্যে আবারো লকডাউন জারি

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: করোনারভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে নতুন করে লকডাউন জারি করেছে দেশটির সরকার। গত সোমবার ব্রিটেন সময় রাত ৮টায় রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জাতির উদ্দেশে জরুরি এক বার্তায় বলেছেন, পুরো ইংল্যান্ডকেই লক ডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে ব্রিটেনের টিয়ার ৫ এর বিধি নিষেধ আরোপ করা উচিত কিন্তু ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তিনি আশাবাদী পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

৮ মিনিটের ভাষণে তিনি বলেন, নাগরিকরা বাসায় থেকে কাজ করবেন। একমাত্র জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হতে পারবেন না। জরুরি প্রয়োজন বলতে জনসন বলেন, প্রয়োজনীয় বাজার করা, যে কাজ বাসা থেকে করা যাবেনা সেটা, কোভিড পরীক্ষা মতো জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা, পার্কে ব্যায়াম করা এবং পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হলেই বের হওয়ার অনুমতি রয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুল বন্ধ থাকবে পরবর্তী নির্দেশনার আগ পর্যন্ত। হাসপাতালগুলোর অবস্থা বুঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২১ দিনের মধ্যে হাসপাতালগুলো আরো অনেক বেশী আক্রান্ত রোগী পাবে যা বর্তমান পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে যাবে।

বরিস জনসন বলেন, ব্রিটেনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রোগ্রাম চালাচ্ছে দেশটি। গত ১ মাসে শুধু ব্রিটেনে যতো মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে পুরো ইউরোপেও এত সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি। সরকারের বিধি নিষেধ মেনে চলার অনুরোধ করে তিনি তার ভাষণ শেষ করেন।

বর্তমান সংকট সামলানোর ক্ষমতা হাতের নাগালের বাইরে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নতুন বিধি নিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই কঠোর বিধি নিষেধ আগামী মার্চ পর্যন্ত চলতে পারে। এর আগে ৩০শে ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ৫ই এপ্রিল ইস্টার হলিডের আগে তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখতে চান।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির স্বাস্হ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদদাতা জেইমস গালাহার কোভিডের বর্তমান বিস্তার ও ভ্যাকসিন দেয়ার সরকারের সক্ষমতার দৌড় নিয়ে একটি বিশ্লেষনে লিখেছেন। করোনার বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতীতে যা কার্যকর ছিলো তা বর্তমানে কার্যকর হবে না। এমনকি করোনার প্রথম ধাক্কার পর মার্চে যে লকডাউন দেয়া হয়েছিলো সেই একই রকম লকডাউনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে পারবে না।

বর্তমান পরিস্থিতি কতোটা ভয়ংকর বিবিসি তার একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছে। যেমন মার্চের প্রথম ধাক্কায় ১০০ জন আক্রান্ত হলে তাদের দ্বারা ৬০ জন আক্রান্ত হতেন, সেই ৬০ জন থেকে ৩৬, ৩৬ থেকে ২১, ২১ থেকে ১২ এভাবেই এটি দুর্বল হয়ে পড়তো।

কিন্তু করোনার নতুন ধরন এতো শক্তিশালী ও দ্রুত ছড়ায় যে বর্তমানে ১০০ জন আক্রান্ত হলে তাদের কাছ থেকে ৯০ জন আক্রান্ত হচ্ছে, সেই ৯০ জনের কাছ থেকে ৮১ জন, ৮১ থেকে ৭৩ এভাবে বেশী মানুষকে আক্রান্ত করছে।
বিবিসির করা বিশ্লেষণে আরও বলা হচ্ছে, আরো কঠোর লকডাউন দিলেও নতুন বছরের প্রথম মাসে ২০ হাজার অতিরিক্ত লোক মারা যাবেন।

গত ১ সপ্তাহের পরিসংখ্যান হিসাবে ধরলে যে হার দাড়ায় তাতে মাসে ২০ লাখের বেশী লোক আক্রান্ত হবে। আর সরকারের বর্তমান ভ্যাকসিন পরিকল্পনা যদি সঠিকভাবে চলে তাহলে মাসে ২০ লাখ মানুষ টিকা পাবে! তাই বিবিসির এই তুলনামূলক বিশ্লেষন নিয়ে যথেষ্ট ভাবার কারন রয়েছে।

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড