সোমবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
০১ মার্চ ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাণী

উইমেনআই২৪ ডেস্ক : আজ ১১ ডিসেম্বর। আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘মাউটেইনস বায়োডাইভারসিটি’ সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।    
 

পৃথিবীর প্রায় ২২ শতাংশই পার্বত্য অঞ্চল। এ অঞ্চলে পৃথিবীর প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের বাস এবং ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মিঠা পানির উৎস। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। পর্বতমালা, নদ-নদী, বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণি এ অঞ্চলকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন অপরিহার্য। পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, এর টেকসই ব্যবহার এবং সকল উপকারভোগীর নিকট সমান সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ‘National Biodiversity Strategy and Action Plan (2016-2021)’ বাস্তবায়ন করছে।
 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম আধুনিকতার ছোঁয়া বিবর্জিত পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসেন। পার্বত্যবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে গ্রহণ করেন নানামুখী কর্মসূচি। আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের সম-সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা নেন। এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।     
 

২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার শান্তিচুক্তির আলোকে পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি করেছি। এই চুক্তি এ অঞ্চলে শান্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বনায়ন, জীববৈচিত্র্যের উন্নত ব্যবস্থাপনা,  যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সকল খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে আজ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ কোন পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ এলাকার জনগণ সমঅংশীদার। 
 

আমি আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। 
আমি ‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস ২০২০’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। 


দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেন, ‘‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। 
 

পার্বত্য এলাকা বাংলাদেশের এক অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত অঞ্চল। বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতি, নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পার্বত্য অধিবাসীদের বর্ণিল কৃষ্টি-ঐতিহ্যসমৃদ্ধ এ অঞ্চল কেবল বাঙালিদের নয়, বিশ্ববাসীকেও প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। পার্বত্য এলাকার বনাঞ্চল নানা প্রজাতির পশু-পাখি ও গাছপালায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি এলাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনন্য ভূ-প্রাকৃতিক গঠন, বিস্তৃত বনাঞ্চল ও তার জীববৈচিত্র্য দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ প্রেক্ষিতে এবারের আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Mountain Biodiversity’ অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
 

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ও মানুষের অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, খরা, ঝড়-ঝঞ্জাট অন্যদিকে বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে বন উজাড়; দুইয়ের প্রভাবে পার্বত্য এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী তরুণ সমাজকে পার্বত্য অঞ্চলগুলোর পরিবেশ রক্ষায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া একান্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস পালনের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনের মৌলিক উপাদানসমূহ নিশ্চিত হবে - এটাই সকলের প্রত্যাশা।
‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস ২০২০’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচি সফল হোক - এ প্রত্যাশা করছি।’’

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড