বৃহস্পতিবার, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭
০৪ মার্চ ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

বিশ্বব্যাপী করোনা : টিকা নিয়ে যা বলছে ডব্লিউএইচও

উইমেনআই২৪ ডেস্ক : ১৯০ দেশের ৬৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং এদের মধ্যে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন লোক মারা গেছে। বিবিসি

প্রাথমিক প্রাদুর্ভাব দমন করতে স্পষ্ট সাফল্য পেয়েছে এমন অনেক অঞ্চল এবং দেশেই ভাইরাসটি বেড়ে চলেছে আবার সংক্রমণও বাড়ছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 

জোহান হোমকিনস বিশ্ববিদ্যালয় ও ন্যাশনাল পাবলিক হেল্থ অ্যাজেন্সি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

বিশ্বের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে গত কয়েক মাস ধরে করোনাভাইরাস রোগের সংখ্যা বেড়েছে এবং প্রতিদিন অগণিত মানুষ নতুন করে সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ২৪  ঘণ্টার মধ্যে ৫ লক্ষাধিক নতুন রোগী পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ব্যবহারের অনুমোদন পেতে শুরু করা টিকাগুলো করোনভাইরাস সঙ্কটের কোনও যাদু কবজ নয়। এর অর্থ এই নয় যে মহামারী খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে। 

ডব্লিউএইচও’র জরুরি সেবাসংক্রান্ত পরিচালক মাইকেল রায়ান বলেন, টিকাগুলোর শক্তি কোভিড-১৯ ভাইরাস দমনের ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ কাযকর নয়। এ টিকা করোনাকে মোকাবিলায় আমাদের কাছে থাকা সরঞ্জাম কিটে একটি বড়, প্রধান ও শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে যুক্ত করবে। তবে এগুলো নিজ থেকেই কাজ করবেনা। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দেশটির ১৫ মিলিয়ন লোক। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৮০ হাজার লোকের যা বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিসংখ্যান। নভেম্বরের শুরু থেকে প্রতিদিনই করোনার রোগী সনাক্ত হচ্ছে যা অন্যান্য দেশের তুলনায় রেকডসংখ্যক। বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় লক্ষাধিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

দেশটির  ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের বেশিরভাগ জায়গায় কঠোরভাবে নতুন লকডাউন আরোপ করা হয়েছে যা ক্রিসমাসের ছুটির সময়কাল ধরে চলবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে  অনেক ব্যবসা বন্ধ থাকবে মানুষজন তাদের বাড়ির বাইরের কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবে না। এর প্রভাব মার্কিন অর্থনীতিতে এক বিপর্যয়ের প্রভাব ফেলেছে। এরই মধ্যে এটির কিছুটা লক্ষণ দেখা গেছে। গবেষকরা বলছেন, যক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ মিলিয়ন লোক দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। এদের বেশির ভাগই সংখ্যালঘু। 

জুলাইয়ের পর থেকে ইউরোপের অনেক দেশে প্রতিদিন করোনা রোগী বাড়ছে। ফ্রান্সে ২ মিলিয়নেরও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্পেন, ইতালি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং পোল্যান্ড সব মিলিয়ে মিলিয়নেরও বেশি করোনা রোগী সনাক্ত করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করোনার রোগী কমতে শুরু করেছে। 

তুরস্কে মে মাসের পরে  প্রথম পুরো সপ্তাহ লগডাউন চলেছে। কারণ তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দ্বিতীয় পযার্য়ে প্রতিদিনই সংক্রমণ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ইরান ও ইউক্রেনেও রোগী সনাক্ত হচ্ছে।

লাতিন আমেরিকার ব্রাজিলে ৬ দশমিক ৬ মিলিয়নেরও বেশি করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে মৃত্যুর দিক দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যায়। আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া এবং মেক্সিকোয়ও মিলিয়নেরও বেশি করোনা রোগী পাওয়া গেছে। ওই অঞ্চলের দেশে পেরুতে সমসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে আশার খবর সংক্রমনের হার দেশটিতে কমছে। 

এশিয়ার মধ্যে ভারতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। করোনায় মৃত্যুর হারে দেশটি এ মহাদেশের সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। দেশটিতে ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। হিসেবে অনুযায়ী  দেশটিতে সংক্রমনের হার যুক্তরাষ্ট্রের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

আফ্রিকা মহাদেশে দুই মিলিয়নেরও বেশি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও সেখানে পরীক্ষার হার কম হওয়ায় মহামারীর প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায়  ৮ লক্ষ রোগীর মধ্যে ২২ হাজরেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে। এ অঞ্চলে এ দেশটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ মহাদেশের মরক্কো, মিশর, ইথিওপিয়া এবং তিউনিসিয়ায় ১ লক্ষাধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড