সোমবার, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
৩০ নভেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘অর্থনৈতিক অবস্থা যত ভালো হবে অভিবাসন তত বাড়বে’

‘অর্থনৈতিক অবস্থা যত ভালো হবে অভিবাসন তত বাড়বে’

বাংলাদেশে চাকরিতে ঢুকতে গেলে যে ধরনের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও লাখ লাখ টাকা ঘুস দিতে হয়, অনেকেই সেই টাকা দিয়ে চাকরিতে না ঢুকে ভাল জীবিকার আশায় অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী।

সাগর পথেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে যাওয়ার কথা আমরা জানি৷ এই প্রবণতা কেন?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: একটা দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশে অভিবাসন করে আসছে৷ যারা মধ্যপ্রাচ্যে গেছেন তাদের অনেকেই কাজ শেষ করে দেশে ফেরার সময়ে চেষ্টা করেন ইউরোপে ঢুকে যেতে৷ আবার আমাদের মফস্বল শহরগুলোর অনেক স্নাতক অভিবাসন করতে চান। কারণ তারা ‘ছোট’ চাকরি করতে চান না। এদের অনেকেরই ইউরোপে কানেকশন আছে। সেখানে থাকা আত্মীয়রা বলেন, কোনভাবে এখানে এসে পড়তে পারলে পরবর্তী কাজের সুযোগগুলো তারা করে দেবেন৷ এই পরিস্থিতিতে তারা খানিকটা জেনে, খানিকটা না জেনে এই পথে পা বাড়ান। আর এই সুযোগটা নেয় দালাল বা সাব এজেন্টরা৷ আগে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি প্লেনে সিরিয়া নেমে সেখান থেকে ইউরোপ যেতেন। পরে দেখেছি, ভারত হয়ে তারা যাচ্ছেন। সম্প্রতি আমরা দেখছি, তারা বসনিয়ার পথ ধরে যাচ্ছেন এবং সেখানে গিয়ে আটকে আছেন। এই মানুষগুলো অভিবাসনের ফলাফল জানেন৷ যদি তারা একবার পৌঁছে যেতে পারেন তাহলে লুকিয়ে থেকে কাজ করার সুযোগ পান বা অনেক সময় ক্ষমাও প্রদর্শন করা হয়। এইসব চিন্তা থেকেই তারা এই পথে যাচ্ছেন।

এই অবৈধ মানুষগুলো যে টাকা পাঠান সেটা কি রেমিটেন্স হিসেবে আসে? না অবৈধভাবে আসে?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: দু'টোই। রেমিটেন্স হিসেবেও আসে৷ অবৈধ পথেও আসে। কারণ তারা যখন টাকাটা পাঠাচ্ছেন তখন বৈধ কাগজপত্র থাকলেই যে শুধু রেমিটেন্স পাঠাতে পারবে বিষয়টা কিন্তু তেমন না। অন্যদিকে ভাই বোন বা যে আত্মীয় সেখানে আছেন, তারা যদি বৈধ হন তাদের মাধ্যমেও কিন্তু বৈধভাবে তারা টাকা পাঠাচ্ছেন৷ ফলে যারা বৈধভাবে যাননি তাদের অনেকের টাকাও বৈধপথে আসে।

বসনিয়ার জঙ্গলে যারা আটকে আছেন তাদের অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছেন ডয়চে ভেলের সাংবাদিকেরা৷তারা বলেছেন, কারো কারো ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকাও খরচ করতে হয়েছে বসনিয়া পর্যন্ত পৌঁছতে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে এই অনিশ্চয়তা বেছে নেওয়া কেন?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: বিদেশে যাওয়ার পর ওখানে যে বেতনটা পাওয়া যাবে সেটার কারণে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা যায় বলেই তারা মনে করেন। আমি দেখেছি, জাস্ট সেলার থেকে মদের বোতল উপরে তুলে এই অবৈধ অভিবাসীরা যে টাকা আয় করেন তাতে কয়েক মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা তারা তুলে ফেলতে পারেন। সেক্ষেত্রে এই রিস্ক তো তারা নেবেনই৷তাছাড়া সাধারণ ক্ষমা প্রদর্শন করা হলে তো তারা দীর্ঘ সময় সেখানে থেকে যেতে পারবেন। এই কারণে তারা জীবন বাজি রেখে সেখানে যান।

বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বেশ ভালো৷ তাহলে এভাবে কেন ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: অভিবাসনের তত্ত্ব বলে অর্থনৈতিক অবস্থা যত ভালো হবে অভিবাসন তত বেশি বাড়বে। মানুষের বড় হবার উচ্চাকাঙ্খা বাড়বে। অভিবাসনের থিওরি বলে অর্থনীতি ভালো হলে অভিবাসন বাড়বে৷ উল্টোদিক থেকে আমরা যদি দেখি,বিশ্বায়নের ভেতরে আমরা ঢুকে গেছি। আমাদের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থায় যে কোন কর্মক্ষেত্রে ঢুকতে গেলে যে ধরনের রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োন পড়ে, দলীয়করণের শিকার হতে হয় সেই সব জায়গায় এই দেশে অনেকে কোন ভবিষ্যত দেখে না। সুতরাং তারা এমন একটা জায়গায় যেতে চান যেখানে আইনের শাসন আছে এবং যে কাজটা করবেন তার নায্য পারিশ্রমিক পাবেন৷ এখানে আমাকে একটা সরকারি চাকরি পেতে গেলে লাখ লাখ টাকা ঘুস দিতে হয়, সেই ঘুষটা না দিয়ে তারা এটা বেটার সিস্টেমের দিকে যেতে চান।

এভাবে লোক পাঠিয়ে আরও রেমিট্যান্স আনার প্রয়োজন আছে কিনা?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: একেবারেই না। সরকারকে আমরা দায়বদ্ধ করতে চায় যে, বৈধ পথে অভিবাসনের সুযোগ সৃষ্টি করলে অবৈধ পথে অভিবাসনের চেষ্টা কমে যাবে। বৈধ পথে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা শুরু করতে গেলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়ে স্কুল থেকে অভিবাসনবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ভকেশনাল ট্রেনিংকে গুরুত্ব দিতে হবে৷ মানুষ যখন তার স্কিল দিয়েই বিদেশে যেতে পারবেন তখন তাকে এই অবৈধ পথ বেছে নিতে হবে না। এই ট্রেনিং এর দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না।

অবৈধভাবে যারা যাচ্ছেন, তারা থিতু হওয়ার পর একইভাবে অন্যদের যেতে উৎসাহিত করেন কি-না?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: অবশ্যই। অবশ্যই। একজন যখন যান তখন তিনি আত্মীয় স্বজনকে নেন৷ এভাবে বিষয়টি ছড়িয়ে পাড়ে। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পর নানা প্রক্রিয়ায় তারা সেখানে বৈধ হয়ে যান্ তা না হলেও কাজের একটা সুযোগ পান। এভাবে যারা যাচ্ছেন তারাই আবার অন্যদের যেতে উৎসাহিত করছেন। আবার দালাল যে চক্র তারাও কিন্তু উৎসাহিত করেন। বাইরের র‌্যাকেটগুলো আমরা ধরতে না পারলেও দেশীয় র‌্যাকেট তো সরকার চাইলে ধরতে পারে। মাঝে মধ্যে দালালদের ধরা হয়। কিন্তু যাদের মাধ্যমে দালালরা এটা করছে তাদের কিন্তু ধরা হচ্ছে না। তাদের ধরলে এই প্রক্রিয়াটা কমে আসত।

যেসব দালাল এভাবে মানুষকে বিদেশে পাঠাচ্ছে তাদের গ্রেফতারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কতটা আন্তরিক?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: আপনারা তো দেখেছেন লিবিয়ায় ২৬ জনকে যে হত্যা করা হল, এরপর অন্তত সাত দিন আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা ব্যাপক অভিযান চালিয়ে দালালদের ধরে ফেলল। সব দালালই কিন্তু দু'টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম বারবার বলছে। কিন্তু তারপর কি আর আমরা জানতে পেয়েছি কিছু। ২০১৪-২০১৫ সালে আমরা দেখেছি, রোহিঙ্গাদের অবৈধপথে পাঠানোর জন্য আমরা কাদের নাম দেখলাম। সংসদ সদস্যদের নাম আমরা দেখতে পেলাম। তাদের কি আমরা কোনভাবে আইনের আওতায় আনতে পেরেছি। আজকে কাতার-কুয়েতে মানব পাচারের দায়ে আমাদের সংসদ সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। আমরা কি পদক্ষেপ নিয়েছি যে, আর কোন সংসদ সদস্য বা কোন ব্যক্তি এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হবেন না?

অবৈধভাবে প্রাণ হাতে নিয়ে বিদেশ যাওয়া নিরুৎসাহিত করতে সরকারি কোন উদ্যোগ কি আপনার নজরে এসেছে?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন গ্রুপ আছে, এছাড়া বিভিন্ন এনজিও তো অবৈধভাবে বিদেশে যেতে বারণ করছেন। নিয়মিত কথা বলছেন। আইওএমের প্রোজেক্ট আছে। এমনকি যারা অবৈধভাবে গেছেন তাদের ফেরত এনে পূর্নবাসনের চেষ্টাও তো আছে। এসব কিন্তু কোন ফল দিতে পারছে না। যারা এগুলো প্রোসেস করছে তাদের যদি শাস্তি দেওয়া যেত তাহলে এটা কমে যেত।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কি?

অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী: উত্তরণের দু'টো পথ। একটা দীর্ঘমেয়াদি, একটা স্বল্পমেয়াদি৷ দীর্ঘমেয়াদি হল আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। স্কিল মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে৷ দ্বিতীয়ত হল এই দালালদের ধরতে হবে। পাশাপাশি যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এরা যাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আপনারা ডয়চে ভেলের পক্ষ থেকে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাদেরকে কারা পাঠিয়েছেন তাদের খুঁজে বের করে ধরতে হবে। এখনই কিন্তু সেই সময়টা। এটা করলেই একটা ভালো ফল মিলবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সূত্র : ডয়চে ভেলে

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড

শীর্ষ সংবাদ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী         নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে’ ‘মুক্তির মিছিল’ : অংশগ্রহণের আহ্বান         জলের আঁচড়         ফ্রিল্যান্সাররা ‘ভার্চুয়াল আইডি কার্ড’ পাচ্ছেন বুধবার থেকে         ঘুমন্ত বাবা-মায়ের পাশ থেকে গায়েব সেই শিশুর লাশ উদ্ধার         বিশ্বে একদিনে করোনা সংক্রমণের নতুন রেকর্ড         পারমাণবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘গাইডলাইন’         সৌমিত্রের স্মৃতিমন্থন করে টুইট করলেন অমিতাভ বচ্চন         ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক বিশ্বস্ত সহকর্মীকে হারালাম’: প্রধানমন্ত্রী         সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর ইন্তেকাল         ফের সেলফ আইসোলেশনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস         স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাকরির বিজ্ঞপ্তি         শীতে রূপচর্চায় সরিষা তেল         প্রথমবারের মতো বাইডেনের জয় স্বীকার করলেন ট্রাম্প         কিংবদন্তী সৌমিত্রের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক         না ফেরার দেশে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়         আলোচনায় মৌসুমী         ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক         ছেলের ছবিতে সোফিয়া লরেনের প্রত্যাবর্তন