মঙ্গলবার, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
২৪ নভেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

“এগিয়ে চলো সাহিত্যের পথে "

“এগিয়ে চলো সাহিত্যের পথে

খাদিজা খানম তাহমিনা

'নুরজাহান পদক' শুনলে কেমন ভালোলাগা জড়িয়ে থাকে। ভাবনায় চলে আসে সেই 'বেগম' পত্রিকার কথা, যার প্রকাশনা শুরু হয় ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই যখন নূরজাহান বেগম বিএ শ্রেণীতে পড়তেন। বেগমের শুরু থেকে নূরজাহান বেগম ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। ১৯৯৬ সালে নূরজাহান বেগম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ত্ব হিসেবে নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠ চক্রের সন্মাননা লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার থেকে রোকেয়া পদক, ২০০২ সালে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৩ ও ২০০৫ সালে নারী পক্ষ দুর্বার নেটওয়ার্ক ও কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তিনি সংবর্ধনা লাভ করেন। স্বর্ণপদক পেয়েছেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, লেখিকা সংঘ, কাজী জেবুনন্নেসা মাহাবুবুল্লাহ ট্রাষ্ট, বাংলাদেশ সাংবাদিক ফোরাম, রোটারি ক্লাব প্রভৃতি সংগঠন থেকে। এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন থেকে সংবর্ধনা পেয়েছেন এই মহীয়সী নারী।

বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটি প্রতিবছর সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য একজন নারীকে "নুরজাহান বেগম পদক" প্রদান করে সম্মানিত করে। প্রতিবছরের মতো এবছরও বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটি গত ১৬ /১০ /২০২০ ইং তারিখে, দীপনপুর অডিটরিয়মে (ভোজনশালা) নারী জাগরণের অগ্রদূত বাংলাদেশের প্রথম নারী সাংবাদিক এবং সাহিত্যিক 'নুরজাহান বেগম পদক' প্রদানের আয়োজন করে। সুলতানা রিজিয়াকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদকে ভূষিত করা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্ব ও পরিচালনায় ছিলেন নারী লেখক সোসাইটি ( বানালেস) এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সাঈদা নাঈম, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহবুবা হক রুমা, সিনিয়ার সাহিত্য সম্পাদক শামীম আরা সীমা, অর্থ সম্পাদক নাসরিন আক্তার এবং কার্যনির্বাহী কমিটির অনেকেই।

আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, প্রাবন্ধিক ও সংগঠক কামরুল ইসলাম, উপদেষ্টা কাওসার পারভীন, ফাতিমা মমতাজ, সিগমা আওয়াল, সভাপতি ফেরদৌসী মাহমুদ, আওলিয়া বেগম টুলটুল, রাজিয়া সুলতানাসহ আরও অনেক কবি ও সাহিত্যিকগণ। এবারের স্লোগান ছিলো, 'এগিয়ে চলো, সাহিত্যের পথে।' সুলতানা রিজিয়া কবিতা, গল্প, উপন্যাস লিখছেন ।

বৈশ্বিক দুর্যোগ মহামারী করোনা’র কারণে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে স্বল্প পরিসরে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানটি শেষ করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাঈদা নাইম।

সুলতানা রিজিয়া। ১৯৫০ সালের ১৯শে নভেম্বর পাবনা জেলার ঈশ্বরদী'র এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।বাবা মরহুম তাছির উদ্দিন তালুকদার।

মা মরহুমা সুরাতুন নেসা।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময় থেকে ছড়া লেখার মাধ্যমে লেখালেখিতে হাতেখড়ি হলেও পরবর্তীতে তাঁর লেখা ছোটগল্প, শিশুতোষ গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাসে সাচ্ছন্দ্যতা ও সমৃদ্ধি লাভ করে। দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

স্বামী জনাব মুহাম্মদ ফজলুল হক ছিলেন অধ্যাপক (রাজশাহী সারদা ক্যাডেট কলেজ)। তিনি একাধারে লেখক ও প্রকাশক, সাংবাদিক (দৈনিক বার্তা), এবং নাট্যকার ছিলেন।

সংসারধর্ম পালন, সন্তান লালন পালনের মধ্য দিয়েই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ এবং বি এড ডিগ্রী লাভ করেন।

সুলতানা রিজিয়া ১৯৭২ সালে রাজশাহী জেলার সারদা পাইলট হাই স্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর রাজশাহী স্যাটেলাইট টাউন হাই স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৭৯ সালে রাজশাহীর জাতীয় দৈনিক পত্রিকা "দৈনিক বার্তা"র মহিলা পাতা 'তিলোত্তমা'র পরিচালক পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। সেই থেকে লেখালেখির সাথে সখ্যতা আরও বাড়তে থাকে। লেখকদের সঙ্গে গড়ে ওঠে নিবিড় সংযোগ। ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন সাহিত্যের অঙ্গনে। মহিলাদের নিয়ে গড়ে তোলেন "তিলোত্তমা সাহিত্য পরিষদ।"

১৯৮১ সালে প্রকাশিত অগ্রসর পাঠকের পত্রিকা " মাসিক নন্দিনী" এর নিয়মিত লেখকদের নিয়ে গঠিত হয় সাহিত্য সংগঠন 'নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র।' যার বিশটি শাখায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় কাজ চলছে। দেশের বাইরে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, হুগলি,কলকাতা, হাওড়া,আসাম, দিল্লী, সুন্দরবন, ঝাড়খণ্ড ইউএসএর নিউইয়র্ক, বোস্টন ও কানেকটিকাটে এর শাখা রয়েছে।যার মূল স্লোগান "মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা।" নিজ সম্পাদনায় প্রকাশ করেন নন্দিনী পত্রিকা।

সুলতানা রিজিয়া রাজশাহী লেখিকা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা। ১৯৮৩ সালে রাজশাহী লেখিকা সম্মেলনের আহ্বায়িকা ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ লেখক-লেখিকা এবং ১৯৮৭ তে জাতীয় লেখক-লেখিকা মহাসম্মেলনের আয়োজন করে সাংগঠনিক দক্ষতার ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে উঠে আসেন।

সুলতানা রিজিয়া ১৯৮৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব প্রকাশনী সংস্থা "সম্রাজ্ঞী প্রকাশনী।' সম্রাজ্ঞী প্রকাশনা শুধুমাত্র নারী লেখকদের জন্য আত্মপ্রকাশ করে।

নারী পুরুষ উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সুসম্পর্ক রেখে ১৯৯০ সালে গঠন করেন "উইমেন কংগ্রেস অফ বাংলাদেশ"।(জাগোনারী) নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র সহ এ দুটি সংগঠনের কাজকে বেগবান করতে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন।

এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত একক গ্রন্থের সংখ্যা ২৩ টি।

প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বই সমুহঃ- উপন্যাস--'ভালোবাসার মৌলি', 'এমন একটি মা দে না।'

বারোয়ারী- "আশালতা এবং যুদ্ধ" "নীল যন্ত্রণা"

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক- 'ঈর্ষা'

ছোটগল্প- 'বিস্মৃত কৈশোর' ,'সুখ অসুখ', 'গল্প সমগ্র', 'এসো নত মস্তকে,','ঋণ চাই ভালোবাসা,' 'প্রেমের পদাবলী,' 'শিশিরের খামে সূর্যোদয়,' 'বসন্ত বিরহ', 'জল বালিকার সূর্যতয়াস'

কবিতা সমগ্র- "চাঁদের দেশে', 'বাঘ বুড়ি ও ছাগলের গল্প' 'সোনার কলম', 'জলপরী জলে থাকে,' 'গল্পের রাজা রাজার গল্প"(শিশুতোষ গল্প)।

'আমাদের বেগম রোকেয়া' (শিশুতোষ জীবনী গ্রন্থ)। তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৫০ টিরও অধিক।

সাহিত্যের নানা অঙ্গনে অবদানের জন্য অর্জন করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সম্মাননা।

নারী উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ১৯৯০,১৯৯১, ও ১৯৯২ সালে ত্রিপলীতে অংশগ্রহণ করেন এবং শ্রেষ্ঠ দলনেত্রী স্বর্ণপদক লাভ করেন।

সাহিত্য ও সাংগঠনিক অবদানের জন্য অর্জন করেছেন একে একে সম্মাননা পদক।

উত্তরণ লাইব্রেরী পাবনা--- ১৯৯৭,

বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ঢাকা। ১৯৯৯,

চারণ সাংবাদিক সম্মাননা (রংপুর)- ১৯৯৯

আশরাফ ফাউন্ডেশন ঢাকা, ১৯৯৯।

বাংলাদেশ কবি সংসদ পাবনা, ২০০০ ।

সিলেট লেখিকা সংঘ --২০০০।

রূপসা নন্দিনী (খুলনা) ২০০০।

আন্তর্জাতিক নারী সংগঠন আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইন্সটিটিউড (এ,বি,আই,) সম্মাননা সনদ ২০০৪।

আলো আভাস সাহিত্য সংস্কৃতি, কলকাতা ২০০৫।

নির্ণয় শিল্পী গোষ্টি স্বর্ণপদক ২০০৭।

আসাম ভারত স্বাধীনতা সংসদ পুরস্কার ২০০৭।

সাহিত্যের প্রসার ও নারী অগ্রগতির কাজে সম্পৃক্ত থেকে ভ্রমন করেছেন পৃথিবীর বহু দেশ। সাহিত্য বিষয়ক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে দেশীয় সাহিত্য সংস্কৃতির পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ভারতের একাধিক প্রদেশ, রোম, এথেন্স, করাচী, আমেরিকা, কানাডাসহ আরও বহু দেশে। পবিত্র ওমরা হজ্জব্রত পালন করেন ২০১১ সালে।

তিনি ত্রিশটিরও বেশি সম্মাননা পদক লাভ করেন।

বর্তমানে প্রকাশনা, সম্পাদনা ,লেখালেখি নিয়ে তিনি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক সাঈদা নাঈম বলেন, - "আমরা সুলতানা রিজিয়া আপাকে সম্মাননা দিতে পেরে ভীষণ আনন্দিত এবং আন্তরিকভাবে তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা নুরজাহান পদকের পাশাপাশি বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটিতে বিভিন্ন ইভেন্টে লিখে যাঁরা সেরা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন, তাঁদেরকেও পুরস্কৃত করেছি। দেশের এই পরিস্থিতিতেও আমরা স্বল্প সময়ে স্বল্প পরিসরে 'নূরজাহান বেগম পদক'টি প্রদান করেছি, পদকের সাথে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থসম্মানীও দিতে পেরেছি। এটা আমাদের জন্য গৌরবের। এমন একজন গুণী সাহিত্য ব্যক্তিত্বকে “নুরজাহান বেগম পদক' এ সংবর্ধনা দিতে পেরে এবং তাঁকে কাছে পেয়ে বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটি তাদের মহৎ এবং নিয়মিত কার্যক্রমকে সচল ও সক্রিয় রেখে চলেছে ।"

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড

শীর্ষ সংবাদ:
জলের আঁচড়         ফ্রিল্যান্সাররা ‘ভার্চুয়াল আইডি কার্ড’ পাচ্ছেন বুধবার থেকে         ঘুমন্ত বাবা-মায়ের পাশ থেকে গায়েব সেই শিশুর লাশ উদ্ধার         বিশ্বে একদিনে করোনা সংক্রমণের নতুন রেকর্ড         পারমাণবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ‘গাইডলাইন’         সৌমিত্রের স্মৃতিমন্থন করে টুইট করলেন অমিতাভ বচ্চন         ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক বিশ্বস্ত সহকর্মীকে হারালাম’: প্রধানমন্ত্রী         সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর ইন্তেকাল         ফের সেলফ আইসোলেশনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস         স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাকরির বিজ্ঞপ্তি         শীতে রূপচর্চায় সরিষা তেল         প্রথমবারের মতো বাইডেনের জয় স্বীকার করলেন ট্রাম্প         কিংবদন্তী সৌমিত্রের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক         না ফেরার দেশে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়         আলোচনায় মৌসুমী         ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক         ছেলের ছবিতে সোফিয়া লরেনের প্রত্যাবর্তন         ফেসবুকের নতুন চমক 'ভ্যানিস মোড'