রবিবার, ১০ কার্তিক ১৪২৭
২৫ অক্টোবর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

"উদ্যোক্তা শব্দটা আসলে যতটা স্মার্ট, কাজটা কিন্তু ততটাই কঠিন"- নাসিমা আক্তার নিশা, নারী উদ্যোক্তা

খাদিজা খানম তাহমিনা

২০০৫ সালের ১৮ নভেম্বর বাবার ব্যবসা দিয়েই নিজের কর্মজীবন শুরু করেন নাসিমা আক্তার নিশা। বাবার ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের এমডির দায়িত্বে ছিলেন নিশা। একটা সময় পরে তাঁর মনে হয়েছে নিজের কিছু করা উচিত। তাই ২০১০ সালে তিনি এবং তাঁর কিছু বন্ধু মিলে শুরু করেছিলেন স্টার্ট-আপ বিজনেস রেভেরি কর্পোরেশন, যেটা একটা সফটওয়্যার কোম্পানি ছিলো। তারপর এক্সপোটেক্স ফ্যাশন নামে একটা গার্মেন্টস বিজনেসও শুরু করেছিলেন। ২০০৬ সাল থেকেই বাবার নামে একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছেন নাসিমা আক্তার নিশা। এই ফাউন্ডেশন থেকে প্রতি বছর স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য 'হাজী সাহাব উদ্দীন স্মৃতি বৃত্তি' নামে একটা বৃত্তিও দিয়ে থাকেন তিনি। ই-ক্যাবে জয়েন করেন ২০১৬ সালে ডিরেক্টর হিসেবে। ২০১৭ সালে মেয়েদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ই-কমার্স সাইট Women and E-Commerce Forum (WE)। এখান থেকে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা দাঁড় করাতে তিনি নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।

সম্প্রতি সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নাসিমা আক্তার নিশা পেয়েছেন অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা। 'উইমেন আই টুয়েন্টি ফোর ডটকম' থেকে কথা বলেছিলাম সাম্প্রতিক সময়ের এই জনপ্রিয় সফল নারী উদ্যোক্তার সাথে।

প্রশ্নঃ উদ্যোক্তা হয়ে উঠার পেছনের গল্পটা আমাদের পাঠকদের জন্য যদি বলেন...

নাসিমা আক্তার নিশাঃ আব্বা অসুস্থ তাই আব্বার ব্যবসা দেখতে হবে আব্বা সুস্থ হওয়া পর্যন্ত। আব্বাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে দেখি আব্বার শরীর বেশি খারাপ হয়ে গিয়েছে, আব্বা উঠে বসতে পর্যন্ত পারছেন না, তখন আমার হাসবেন্ড বলল, 'এখন তো আর কোন উপায় নাই, তোমাকেই ব্যবসার হাল ধরতে হবে।' সেখানে আব্বার অফিসের সবাই ছিলো, তখন সবার সামনে আব্বা আমাকে একটিং এমডি হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন থেকেই আমি সিরিয়াস হয়ে কাজ শুরু করি। তবে সিদ্ধান্ত নিলাম, আব্বা সুস্থ হলেই আব্বার জায়গা আব্বাকে ছেড়ে দিবো। কিন্তু ডিসেম্বরে আব্বা মারা যান। সবাই মিলে তখন আমাকে এমডি বানালো। আব্বার প্রজেক্টটা আমি খুব ভালো বুঝতামও না, হঠাৎ করে তো আমাকে দায়িত্ব নিতে হলো। পরে আমি কয়েক মাস রেস্ট নেই। রেস্ট নিতে গিয়ে দেখি আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি, তখন আমার হাসবেন্ড বলেছিলো, 'আসলে তোমার রক্তে বিজনেস আছে তো, তুমি বিজনেস ছাড়া থাকতে পারবা না।' তারপরই আস্তে আস্তে নিজের উদ্যোগ শুরু করা। রেভেরি কর্পোরেশন নামে নিজের কাজ শুরু করি, যেটা সফটওয়্যার কোম্পানি। মোবাইলে এপস্ দিয়ে সফটওয়্যার বানাই। পাশাপাশি গার্মেন্টস দেই, তবে তা কন্টিনিউ করতে পারিনি। এর ভেতরেই ই-ক্যাবে জয়েন করি। সেখান থেকে মূলত ইন্ডাস্ট্রিতে চলা, একটা ই- কমার্স সেক্টরকে শিশু থেকে ম্যাচিউরিটি লেভেল পর্যন্ত নেওয়া এসব কাজ করে আসছি। আমাদের তখন সময়ে প্রেসিডেন্ট ছিলেন রাজিব আহমেদ স্যার। তিনি বলছিলেন যে, 'তুমি নারীদের প্ল্যাটফর্মটা সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলো, তাহলে ভালো হবে।' তখন আমার মনে হলো, আমিতো এইরকম একটা কিছু চাইছিলাম কিন্তু যখন আমি রেভারি স্টার্ট করি তখন তো আমি কিছু বুঝতাম না, জানতাম না। তখন আমার অনেককিছু সামাল দিতে হয়েছে, অনেক উত্থান-পতন ঠিক ঐ সময়টায়। আমি চিন্তা করেছিলাম, কখনো এরকম একটা সুযোগ পেলে নারীদের একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবো। তো রাজিব স্যার যখন বললেন এই কথাটা, তখন আমি ভাবলাম, এইতো সুযোগ আমি পেয়েছি। তখন আমি আমার 'উই' টাকে স্টার্ট করি। 'উই' মানে 'উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম' এর আইডিয়াটা আগেই আমার মাথায় ছিল তবে এটা ২০১৭ সালে আমি 'উই'কে স্ট্যাবলিস্ট করার চেষ্টা করি। ই- ক্যাবে ঢুকার পর আমি উই'কে ফর্মালি স্টার্ট করি। তারিখটা আমার স্পষ্ট মনে আছে ২০১৭ সালের ২৫ শে অক্টোবর। কয়েকজন উদ্যোক্তাকে নিয়ে আমি একটা রেস্টুরেন্টে ফর্মালি শুরু করি এবং ঠিক এক বছর পর আমি এটার রেজিষ্ট্রেশন করি। এটা এখন একটা ফুললি রেজিস্ট্রার্ট। ২০১৮ সাল থেকে এটা একটা রেজিস্ট্রার্ট ট্রাস্ট হিসেবে কাজ করছে।

প্রশ্নঃ ওমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) নারীদের একটা প্ল্যাটফর্ম, উই এর কার্যক্রমটা কি?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ আমার উদ্দেশ্য ছিলো, আমি প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের এখানে কানেক্ট করবো, আমি তা করতে পেরেছি। আল্লাহ'র রহমতে তারা কানেক্টেড। এখন আমার আরও বেশি করে কাজ করতে হবে, এখন তাদের দেশীয় প্রোডাক্টগুলোকে আমি এক্সপোর্ট করবো, এই এক্সপোর্ট চ্যানেল নিয়ে কাজ করছি এখন। এগুলো আমাদের বাংলাদেশী প্রোডাক্ট, এগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক্সপোর্ট করবো। ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের এই কাজগুলোকে তুলে ধরবো বিশ্বে।

প্রশ্নঃ প্রসঙ্গক্রমে আরেকটি প্রশ্ন, দেশীয় পণ্যের বাজার তৈরির বিষয়টি মাথায় কেনো আসলো? এতবড় একটা প্ল্যাটফর্ম কিভাবে তৈরি করলেন?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ প্রথম উদ্দেশ্য ছিলো যে আমরা শুধু নারী উদ্যোক্তাদের নিয়েই কাজ করবো, কিন্তু আমরা পরে ভাবলাম, আসলে স্পেসিফিক ট্রপিকালি না গেলে আগানো যাবে না, তখন আমরা স্পেসিফিক কি নিয়ে কাজ করবো ভাবতে থাকি, তখন একদিন আমাদের একটা অনলাইন আড্ডা হচ্ছিল, তখন কথায় কথায় আমাদের দেশীয় পণ্যের বিষয়টি মাথায় আসে। যেসব পণ্য হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে সেসব পণ্যকে আমরা নিয়ে আসবো। এমন হয়েছে যে 'পাখি ড্রেস ' না পেয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছে, এমন কাহিনিও আমাদের দেশে ঘটেছে, তাহলে জিনিসটাকে আমরা ঘুরিয়ে কেনো দেই না, বাইরের দেশেও আমাদের দেশের কাপড়ের প্রতি যেনো সেরকম একটা মেন্টালিটি তৈরি হয়। তখন আমরা ভাবলাম দেখি কিছু করা যায় কিনা। তখন আমরা এই জায়গাটা ফোকাস করি, এতে করে আমাদের দেশীয় পণ্যটাও উঠে আসবে আবার আমাদের তাঁতিগুলোও বেঁচে যাবে, কারণ তখন আমাদের তাঁতিরা তো মরতে বসেছে। তখন মূলত আমরা তাঁতপণ্য নিয়ে কাজ শুরু করি। তখন আমরা জামদানী দিয়ে শুরু করি, একে একে শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্রসহ প্রত্যেকটা প্রোডাক্টই আমরা নিয়ে আসলাম।

প্রশ্ন. অনন্যা শীর্ষ দশে নিজেকে দেখে কেমন অনুভূতি হয়েছিলো?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ সত্যি কথা বলতে, এখনই এরকম কিছু হবে, আমি আসলে ভাবিনি। 'অনন্যা' সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই শোনে আসছি। যখন অফিসিয়ালি আমাকে কল করা হলো, তখনও আমি বিশ্বাস করিনি যে এটা আসলে সত্যি, নাকি কোনো প্রেংক। পরে যখন বুঝলাম এটা আসলেই অনন্যার অফিসিয়াল একটা কল, তাসমিমা হোসেন নিজেই গত এক বছর ধরে আমাকে মনিটরিং করছেন, তখন নিজের কাছে খুব ভালো লেগেছে, সন্মানিতবোধ করলাম। আমার মনে হয়েছে যে আমি সেই পর্যায়ে এখনো কাজ করতে পারিনি। ভীষণ অনুপ্রাণিতও হয়েছি, দায়িত্ব বেড়ে গেছে আরও এগিয়ে যাওয়ার।

প্রশ্নঃ 'মানবসেবা' নামে একটা সংগঠনে সেবামূলক প্রচারণায় আপনাকে একটিভ দেখা গেছে, সংগঠনটি সম্পর্কে কিছু বলবেন কি..?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ অবশ্যই বলবো। এটা আমাদের ই-ক্যাবেরই একটা পার্ট। যখন আমাদের লকডাউন সিচুয়েশনটা স্টার্ট হলো, তখন ই-ক্যাব থেকে আমরা ৯ জন সদস্য চিন্তা করলাম যে, একদম যারা গরীব, তাদের কাছে মানুষের সাহায্য পৌঁছায়, কিন্তু যারা মধ্যবিত্ত, তারা মানুষের কাছে কিছু চাইতে পারে না, তারা মরে গেলেও কারো কাছে হাত পাতবে না। সব লক হয়ে গেছে, অনেকের চাকরি চলে গেছে, কেউ কেউ ইনকাম করতে পারছে না, তাদের জন্য আমরা কিছু একটা ব্যবস্থা করতে পারি কিনা। তখন আমরা প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়ে একটা ফান্ড তৈরি করি এবং একটা প্যাকেজ তৈরি করি। সেখানে শমী কায়সার আপু হলেন প্রেসিডেন্ট আর আমি জয়েন্ট সেক্রেটারি। আমাদের ৯ জনেরই ভাবনা মিলে গেছে, এবং কারো কোনো দ্বিমত ছিলো না। আমরা ফান্ডটা করে রাতারাতি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করি। আমাদের ডিরেক্টর আছেন আশীষ ভাই প্ল্যাটফর্মটা রেডী করে দেন। আমরা একটা প্যাকেজের আন্ডারে মানুষকে কিভাবে আমরা খাবার দিবো তা নির্ধারণ করি। তারপর আমরা এটার প্রমোশনে নেমে যাই। আমরা দিনরাত লাইভ করেছি, মানুষের সাথে কথা বলেছি, বিভিন্ন জায়গা থেকে রেসপন্স আসছে। আমরা বলেছি, 'আপনাদের পরিচয় আমরা একদম গোপন রাখবো, আপনারা একদম সিকিউরড, আপনারা পারসোনালি ইনবক্সে আসেন, আমাদেরকে জানান, আমরা আপনার দুয়ারে খাবার রেখে আসবো, আপনার রিসিভ করতে হবে না" এটা বলার পর অনেকে নক করেছে। আমরা ঢাকার এবং ঢাকার বাইরে প্রায় ৬ শ'র বেশি পরিবারকে খাবার পৌঁছে দিয়েছি। এই পরিবারগুলো যে খেতে পেরেছে, দোয়া করেছে, এটাই আমাদের সার্থকতা। এটার সাথে আমি নিজেকে ইচ্ছে করে জড়িয়ে ছিলাম। কারণ আমি আমার আব্বাকে দেখেছি যখন বন্যা হতো, তখন আব্বা চলে যেতেন সেই বন্যাদুর্গত একাকায়। খিচুড়ি রান্না করে সবাইকে পাতে বেরে বেরে খাওয়াতেন। এই মূল্যবোধের ভীত টুকু তৈরি হয় পরিবার থেকেই। আমিও আব্বার মতো চেষ্টা করি। আমি আমার পরিবার থেকে শিক্ষা পেয়েছি, তাই চেষ্টা করি কাজে লাগাতে। তবে সবাই সহযোগিতা করেছে।

প্রশ্নঃ সামনে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কি...?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ হ্যা অবশ্যই। যেমন ওদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর আমি বেশি নজর দিয়েছি। কারণ অনেক সময় দেখা যায় যে, আমরা যতই এডুকেটেড হই না কেনো, আমাদের স্কিলের কিছু ঘাটতি থাকে, সেই জায়গাগুলো নিয়ে আমি কাজ করছি। প্রতি সপ্তাহে আমাদের বিভিন্ন বিষয় বা প্রোডাক্ট নিয়ে ওয়ার্কশপ হয়, আবার মাস্টারক্লাস নামে মাসে একটা করে ক্লাস যাচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল এবং লোকাল ট্রেইনারদের দ্বারা।

প্রশ্নঃ এই ধরনের ট্রেনিংগুলোতে আপনারা কোনো ধরনের ফি নেন কিনা, বা প্রসিডিউরটা কি?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ আচ্ছা, একটা রেজিষ্ট্রেশন ফি আমরা রাখি। প্রথমদিকে আমরা এই ট্রেনিংগুলো ফ্রী করাতাম, পরে দেখলাম অনেকে রেজিষ্ট্রেশন করেও জয়েন করে না, তখন আরেকজন সেই সুযোগটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যদি আমি ৫০০ টাকা রেজিষ্ট্রেশন ফি রাখি তখন দেখা যায় যে ঐ ৫০০ টাকার মায়ায় সে ঠিকই জয়েন করবে। এখান থেকে আমাদের ট্রেইনারদেরকে ফিস দিতে হয়, আমরা সার্টিফিকেট দেই, এখান থেকে পুরোটা কাভার হয় না, নিজেদের পকেট থেকেও দেই। আমরা নূন্যতম একটা এমাউন্ট নেই যেনো ইজিলি যে কেউ আসতে পারে। অন্যান্য জায়গায় এই কোর্সগুলোতে তো অনেক টাকা নেয়।

প্রশ্নঃ ব্যাংক লোনের কোন বাড়তি সুযোগ পান কি? বা লোন নিতে কোনো সমস্যা হয় কিনা?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ আমি আমার উদ্যোক্তাদের আসলে ব্যাংক লোনের ব্যাপারে এখনও এনকারেজ করিনি। তারা হচ্ছে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি লেবেলের উদ্যোক্তা। তাদের এই মুহূর্তে ফান্ডিংয়ের দরকার নাই। তাদের অকেশন ভিত্তিক ফান্ডিংয়ের দরকার হয়। আর সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজটা দিয়েছে, সেই প্যাকেজ ওদের জন্য না। তাদের কাছে ব্যাংকের ডকুমেন্ট নেই, কোম্পানির ডকুমেন্ট নেই, আমি তাদেরকে সবার আগে যেটা বলি, 'আগে তোমাদেরকে লিগ্যাল হতে হবে, তুমি যখন একটা উদ্যোগ শুরু করো, তখন উদ্যোগের সাথে সাথে সরকারের একটা ট্রেড লাইসেন্স নেয়া উচিত, সেখান থেকেই কিন্তু তোমার উদ্যোগের বয়সটাকে কাউন্ট করা হবে, আদারওয়াইজ বয়স কিন্তু কাউন্ট করা হবে না। ট্রেড লাইসেন্স করলে ৬ মাস পর ব্যাংক তোমাকে একটা সাহায্য করবে। প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে পারে কিংবা লোন অফার করতে পারে। ৬ মাসটা কিন্তু ঐ লাইসেন্স থেকে কাউন্ট করবে ফেসবুক পেইজের উপর কাউন্ট করবে না, লাইসেন্সের বয়স ৬ মাস হতে হবে। এই জিনিসটা কিন্তু অনেকে জানেন না। এই জিনিসগুলা আমরা বিভিন্ন ওয়ার্কশপের মাধ্যমে জানিয়ে দেই। আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি, আগে নিজের কোম্পানির ডকুমেন্ট রেডী করতে হবে। ব্যাংকে ১ টাকা হলেও ট্রানজিশন করতেও বলি উদ্যোক্তাদের। মানে যেকোনো লেনদেন আমরা ব্যাংকের মাধ্যমে করতে বলি, অল্প অল্পই হোক তা ব্যাংকের মাধ্যমে করুক। তখন কিন্তু ব্যাংক তোমাকে লোন দিতে রাজি হবে। ব্যাংককেও আমরা বলি উদ্যোক্তাদের এসব ক্যাশ অন ডেলিভারিগুলো, ট্রানজিশনগুলো দেখে তাদের লোন দিয়ে দিন। কিছু ব্যাংক আমার আইডিয়াটা পছন্দ করেছে। তারা বলেছে, তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে উদ্যোক্তাদের বিষয়টি দেখবেন। আমিও উদ্যোক্তাদের বলেছি তোমরাও ব্যাংককে সাহায্য করো, যেনো ব্যাংক তোমাদের কাছে আসতে পারে।

প্রশ্নঃ কাজ করতে গিয়ে কি কি বাধা বা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে, যা কিনা আপনাকে এখনো কষ্ট দেয়?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ অনেক অনেক.. প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছি। যখন থেকে আমি শুরু করেছি, মানে যখন আমি একেবারে নতুন ছিলাম, যখন শেখা শুরু করেছি, কিভাবে কাজ করতে হবে, কিভাবে ক্লায়েন্ট পেতে হয়, অনেক শেখার পরও অনেক ডিফিকাল্টি ফেইস করেছি। বারবার আমি হোঁচট খেয়ে ফিরে এসেছি। এত ডিটেইলসতো বলা যাবে না, ধরেন আমি নিজে কোনো একটা প্রজেক্ট রেডী করেছি মিনিস্ট্রির জন্য কিন্ত সেই প্রজেক্টটা আর আমার কাছে আসেনি। আমি আসলে জানতাম না যে, কিভাবে আইডিয়া সাবমিট করতে হয়। আমি আমার মতো আইডিয়া সাবমিট করেছি কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা গেলো সেই আইডিয়া অন্যজন নিয়ে কিছু কাজ করে ফেলেছে। এই জিনিসগুলো নিয়ে আমি খুবই প্রবলেমে পড়তাম। মাঝখানে ভেবেছি আর কাজই করবো না, কিন্তু তবুও করেছি, কি করবো, ছাড়িনি কখনো, ধৈর্যবলে ছিলাম।

প্রশ্নঃ উদ্যোক্তা হওয়াটা কতটা সহজ মনে হয় আপনার কাছে বা একজন নারীর উদ্যোক্তা হতে কি কি গুণাবলী বা যোগ্যতার প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ উদ্যোক্তা শব্দটা আসলেে যতটা স্মার্ট, কাজটা কিন্তু ততটাই কঠিন। এখানে প্রতিটা নারীকে আমি বলবো যে, ধৈর্য ধরে টিকে থাকতে হবে। অকেশনাল, সিজনাল উদ্যোক্তা হওয়া যাবে না, লং টাইম চিন্তা করে আসতে হবে। কেউ ভালো করছে, তাই আমিও করবো - এধরনের চিন্তা নিয়ে বিজনেসে না আসাই ভাালো। প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভালোভাবে আগে জানতে হবে।

কিনে আনলাম আর সেল করলাম, এটা কিন্তু উদ্যোক্তা না। তাকে টোটাল সেক্টরটা নিয়ে শিখে আসতে হবে, হ্যা আমরা কাজ করতে করতে আরও শিখি, তবে নূন্যতম কিছু জিনিস শিখে অবশ্যই আসা উচিত, হুট করে কোনো কিছু করা উচিত না, উদ্যোক্তাদের জন্য তো অবশ্যই না, ধৈর্য রাখতে হবে, খুব প্যাশন নিয়ে আসতে হবে। প্যাশন না থাকলে তার উদ্যোক্তা হতে আসাটা উচিত না।

প্রশ্নঃ আপনার উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরামে কোন ধরনের নারীরা আসতে পারবে, নাকি সবার জন্য উম্মুক্ত?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ সব নারীরা আসতে পারে, তবে তাদের পিওর দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করতে হবে, বা যদি কেউ কাজ না-ও করে তাহলেও তাদের সেই ইচ্ছেটা থাকতে হবে।

প্রশ্নঃ আপনাদের এখানের ট্রেনিংগুলো সম্পর্কে কিভাবে জানা যাবে, বা ট্রেনিংগুলো করার সুযোগ পাবে?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ এটা খুবই ইজি, আমরা প্রত্যেকটা ট্রেনিংয়ের আগে গ্রুপে পোস্ট দিয়ে থাকি। প্রতি মাসে ৪/৫ টা ট্রেনিং থাকে, এবং এনাউন্সমেন্ট পোস্টগুলো পিন করা থাকে, একটা শেষ হলে পরবর্তী ট্রেনিংএর এনাউন্সমেন্ট আবার পিন করা হয়। আবার কেউ এনাউন্সমেন্ট পোস্টগুলো চেক করলেও জানতে পারবে। তখন সে ইচ্ছুক হলে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারে।

প্রশ্নঃ আপনার সংগঠনের মেম্বার বর্তমানে কতজন?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ এখন ১০ লাখ অর্থাৎ ওয়ান মিলিয়ন সদস্য আছে উইতে।

প্রশ্নঃ এত দ্রুত সদস্য বাড়ার কারণ কি বলে আপনি মনে করেন?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ সব থেকে বড় কারণ হচ্ছে, আমরা যে স্কিল ডেভেলপ করাচ্ছি নারীদেরকে, সেটা হচ্ছে ওয়ান অব দ্যা বেস্ট রিজন। কারণ স্কিল ডেভেলপের প্রতি সবারই কিন্তু আগ্রহ আছে।আমি আসলে নারী হিসেবে যে যে প্রবলেমগুলো ফেইস করেছি, আমি সেই প্রবলেমগুলো নিয়েই কিন্তু কাজ করেছি। যার যেখানে ঘাটতি আছে, সে সপই বিষয়টায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে পারছে এখানে।

৮. উই এবং ই-ক্যাব এই দুইয়ের মধ্যে কি কোনো সম্পর্ক আছে?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ ই- ক্যাব হলো 'উই'য়ের সাপোর্টেড এ্যাসোসিয়েশন। আমরা এসোসিয়েশন হিসেবে ই-ক্যাবকে সাপোর্ট করি, আবার সেইম টাইম ই-ক্যাবও আমাদের ফোরামকে সাপোর্ট করে। আমরা হচ্ছি ই- ক্যাবের সাপোর্টেড ফোরাম। নারীদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ই-ক্যাব সবসময়ই সাপোর্ট করে আসছে উই ফোরামকে। দুইটা সম্পূর্ণই আলাদা। ই- ক্যাবে সবাই দেশী, বিদেশী পণ্য নিয়ে কাজ করতে পারে।

প্রশ্নঃ ই- কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ই-ক্যাব) এর জয়েন্ট সেক্রেটারি, ও স্টার্ট-আপ রেভারি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আপনি, প্রতিটা দায়িত্বই খুব গুরুত্বপূর্ণ - কিভাবে সামাল দিচ্ছেন।?

নাসিমা আক্তার নিশাঃ সবকিছুই আসলে ব্যালেন্স করতে হয়।

প্রশ্নঃ দুঃখজনক বিষয় যে, আপনার হাসবেন্ড গত নভেম্বরে মারা গেছেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভবিষ্যতের ভাবনা কি, যদি বলতে চান....

নাসিমা আক্তার নিশাঃ না আমার আর কোনো ভাবনা নাই, কারণ আমার ছেলে আছে, আমার 'উই' ফোরাম আছে, এগুলোই সময় দিয়ে শেষ করতে পারি না, তো এরাই আমার সংসার, তাই নতুন করে আর কিছু চিন্তা করার ইচ্ছা আমার নাই।

Mujib Borsho

সর্বশেষ সংবাদ

লিড

শীর্ষ সংবাদ:
আগাম ভোট দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প         কিশোরগঞ্জে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ         এল ক্ল্যাসিকোতে হারল বার্সা         পদ্মাসেতুতে বসেনি ৩৪তম স্প্যান,পাহারায় সেনাবাহিনী         ডিআরইউ’র রজত জয়ন্তীর উদ্বোধন কাল         অপরাধ করে কেউ পার পাচ্ছে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুইস আর্ক         ৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ, বাবা গ্রেফতার         বিয়ে না করা পর্যন্ত ‘সিঙ্গেল’ কিয়ারা!         গায়ে হলুদে ভাইরাল নেহা কাক্কর         শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের         অভিনব ইচ্ছার কথা জানালেন কবীর সুমন         আল জাজিরার প্রতিবেদন : ফেব্রুয়ারি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে মারা যেতে পারেন ৫ লক্ষাধিক মানুষ         রয়টার্সের প্রতিবেদন : করোনার আঘাতে এশিয়ায় দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ         ট্রাম্প আগাম ভোট দেবেন আজ         রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের দৃঢ় ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী         ইসরাইলের সাথে শান্তি চায় আরো ৫ দেশ : ট্রাম্প         টিকা ক্রয়ে বিশ্বব্যাংকের ঋণ চায় বাংলাদেশ         ‘কয়েকটি দেশে করোনা পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক হবে’